ডাক্তে তোমায় পারি যদি আড়াল থাক্তে পারবে না (dakte tomay pari jodi aral thakte parbe na)
ডাক্তে তোমায় পারি যদি আড়াল থাক্তে পারবে না
এখন আমি ডাকি তোমায় তখন তুমি ছাড়বে না॥
যদি দেখা না পাই কভু —
সে দোষ তোমার নহে প্রভু
সে সাধনায় আমারি হার জানি তুমি ছাড়বে না॥
বহু লোকের চিন্তাতে মোর বহু দিকে মন যে ধায়,
জানি জানি, অভিমানী পাইনে আজ তাই তোমায়।
বিশ্ব, ভুবন ভুলে যেদিন
তোমার ধ্যানে হব বিলীন,
সেদিন আমার বক্ষ হতে চরণ তোমার কাড়বে না॥
- ভাবসন্ধান: ভক্তিমার্গের এই গানে - কবি পরমসত্তার প্রতি অবিচল বিশ্বাসে কবি উপস্থাপন করেছেন। পরম বিশ্বাসে তাঁকে ডাকলে তিনি আড়ালে থাকেন না। পরমসত্তাকে পাওয়ার জন্য প্রয়োজন তাঁর প্রতি একাগ্র ভক্তি এবং সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। মানুষের মন যতদিন জগতের নানা প্রলোভনে আসক্ত থেকে, ততদিন তাঁকে পাওয়া যায় না।
ভক্ত কবি মনে করেন, সেই পরমসত্তাকে যদি একাগ্রচিত্তে কেউ ডাকতে পারেন, তবেই তিনি আড়ালে না থেকে ভক্তের ডাকে অবশ্যই সাড়া দেবেন। আর একবার যদি তিনি সাড়া দেন, তবে তিনি আর ভক্তকে ছেড়ে যাবে না।
কবি পরমসত্তার প্রতি পরম বিশ্বাসে অবিচল থেকে পরমভক্তিতে ভাবেন, কখনও যদি তিনি পরমসত্তার দর্শন না পান, তবে তার জন্য তিনি দায়ী নন। দায়ী তাঁর সাধনার অপূর্ণতা। অর্থাৎ ভক্তির পথে ব্যর্থতা, মূলত তা ভক্তেরই সীমাবদ্ধতা। একই সাথে তিনি নিজের মনের দুর্বলতার কথাও স্বীকার করছেন। মানুষের চিন্তা, নানা পার্থিব ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা তার মনকে বিভিন্ন পথে পরিচালিত করে। কবি জানেন- এই চঞ্চলতা ও অভিমানের কারণেই তিনি সেই পরমসত্তার সন্ধান পান না। কবির দৃঢ় বিশ্বাস- যেদিন তিনি জগতের সব মোহমায়া ভুলে সম্পূর্ণভাবে তাঁর ধ্যানে নিমগ্ন হবেন, সেদিন তিনি তাঁর হৃদয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যাবেন। তখন তিনি পরমসত্তার চরণে চিরকালে জন্য ঠাঁই করে নিতে পারবেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ ১৩৪২) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ১ মাস।
- রেকর্ড: টুইন [জানুয়ারি ১৯৩৬ (পৌষ-মাঘ ১৩৪২)। এফটি ৪২১৩। শিল্পী: নিতাই ঘটক। সুর: নজরুল ইসলাম] [শ্রবণ নমুনা]
- পত্রিকা:
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- জগৎ ঘটক। ভারতবর্ষ। [জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৩ (মে-জুন ১৯৩৬)। [নমুনা]
- সুধীন দাশ। নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি চতুর্দশ খণ্ড(নজরুল ইন্সটিটিউট)। ১৪ সংখ্যক গান। রেকর্ডে নিতাই ঘটকের গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। পরমসত্তা। আত্মনিবেদন
- সুরাঙ্গ: ভজন
- তাল: দাদরা [উভয় স্বরলিপি]
- গ্রহস্বর: ধা [উভয় স্বরলিপি]