নাই হ'ল মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার (nai holo maa boshon vushon ei eid e amar)

নাই হ'ল মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার।
আল্লা আমার মাথার মুকুট রসুল গলার হার॥
নামাজ রোজার ওড়না শাড়ি, ওতেই আমায় মানায় ভারি,
কল্‌মা আমার কপালে টিপ, নাই তুলনা তার॥
হেরা গুহারি হীরার তাবিজ কোরান বুকে দোলে
হাদিস্ ফেকাহ্ বাজুবন্দ্ দেখে পরান ভোলে।
হাতে সোনার চুড়ি যে মা, হাসান হোসেন মা ফাতেমা,
মোর অঙ্গুলিতে অঙ্গুরি, মা নবীর চার ইয়ার॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে একজন ভক্ত মুসলিম নারীর অভিব্যাক্তিতে ইসলামের প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস, ভক্তি, আত্মতৃপ্তি ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটেছে। তবে বাহ্যিক অলংকার ও জাগতিক সাজসজ্জার পরিবর্তে ধর্মীয় আদর্শ, পবিত্র স্মৃতি ও ঈমানকেই জীবনের প্রকৃত অলংকার হিসেবে গ্রহণ করার ভাবই এখানে মুখ্য হিসেবে প্রতিভাত হয়।

    গানের শুরুতে কবি তাঁর অসংখ্য অপ্রাপ্তির মধ্যেও এক মহামূল্যবান প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। আসন্ন ঈদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন—এই ঈদে তাঁর নতুন পোশাক বা বাহ্যিক অলংকার কিছুই হয়নি, তবু তাঁর কোনো অভাববোধ নেই। কারণ তাঁর কাছে আল্লাহই মাথার মুকুট এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) গলার হারস্বরূপ। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাস ও রাসুলের প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ও সৌন্দর্য।

    কবি মনে করেন, নামাজ ও রোজার পবিত্রতা তাঁর প্রকৃত বসন; এগুলোই তাঁকে আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও সৌন্দর্যে আবৃত করে রেখেছে। তাঁর কপালের টিপ হলো কলেমা , অর্থাৎ ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পবিত্র বাণী। এই আত্মিক অলংকারের সঙ্গে কোনো পার্থিব অলংকারের তুলনা হয় না।

    এরপর কবি ইসলামের পবিত্র জ্ঞান ও ঐতিহ্যকে বিভিন্ন অলংকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হেরা গুহার স্মৃতি তাঁর কাছে হীরার তাবিজের মতো মূল্যবান, আর পবিত্র কোরআন তাঁর হৃদয়ের ওপর ধারণ করা অমূল্য রত্ন। হাদিস ও ফিকাহ্‌ তাঁর কাছে এমন জ্ঞান-অলংকার, যা তাঁকে ধর্মীয় চেতনা, বিশ্বাস ও নৈতিকতার আলোয় সমৃদ্ধ করে।

    শেষ স্তবকে কবি ইসলামের মহান ব্যক্তিত্বদের তাঁর জীবনের অলংকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর হাতে সোনার চুড়ির পরিবর্তে রয়েছে মহানবীর প্রিয়জনদের স্মৃতি। হযরত হাসান, হযরত হোসাইন ও মা ফাতেমা তাঁর কাছে অমূল্য ভূষণের মতো। তাঁর আঙুলের অঙ্গুরি হলো নবীজির চার খলিফা—হযরত আবু বকর, হযরত উমর, হযরত উসমান ও হযরত আলীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। অর্থাৎ ইসলামের মহান ব্যক্তিদের আদর্শই তাঁর জীবনের প্রকৃত অলংকার।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৭) মাসে,   টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৬ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ৫৮২ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ১৭৭
  • রেকর্ড: টুইন [ডিসেম্বর ১৯৪০ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৭)। এফটি ১৩৪৯৬। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ[শ্রবণ নমুনা]
  • বেতার:
    • ঈদজ্জোহা। গীতিআলেখ্য। [৯ জানুয়ারি ১৯৪১ (বৃহস্পতিবার ২৫ পৌষ ১৩৪৭)। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ]
    • বেতার: ঈদ। (ঈদল ফিতর উপলক্ষে প্রচারিত শ্রুতি নাটক) [১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর (বুধবার ৫ কার্তিক ১৩৪৮)]
      সূত্র:
      • বেতার জগৎ। ২২ অক্টোবর  (বুধবার, ৫ কার্তিক ১৩৪৮)। পৃষ্ঠা: ১২১০
      • The Indian Listener Vol VI No. 20, page 59
  • পত্রিকা: মোহাম্মদী। অগ্রহায়ণ ১৩৪৬। পাঠান্তর: নাই হলো মা জেওর লেবাস
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। সাধারণ। প্রাপ্তি
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য

 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।