আমি কি সুখে লো গৃহে রবো (ami ki sukher lo grihe robo)

আমি    কি সুখে লো গৃহে রবো
           সখি গো 

আমার   শ্যাম হলো যদি যোগী ওলো সখি আমিও যোগিনী হবো।
           আমি যোগিনী হবো
 শ্যাম    যে তরুর তলে বসিবে লো ধ্যানে
           সেথা অঞ্চল পাতি’ রবো
আমার    বঁধুর পথের ধূলি হবো
আমায়   চলে যেতে দলে যাবে সেই সুখে লো ধূলি হবো
           সখি গো-
  আমি   আমার সুখের গোধূলি বেলার
           রঙে রঙে তারে রাঙাইব
  তার    গেরুয়া রাঙা বসন হয়ে
           জড়াইয়া রবো দিবস যামী
           সখি গো 

  সখি    আমার কঠিন এ রূপ হবে রুদ্রাক্ষেরই মালা
  তার    মালা হয়ে ভুলব আমার পোড়া প্রাণের জ্বালা
আমার   এ দেহ পোড়ায়ে হইব চিতা ছাই
           মাখিবে যোগী মোর পুড়িব সেই আশায়
           পোড়ার কি আর বাকি আছে
আমার   শ্যাম গেছে যোগী হয়ে ছায়া শুধু পড়ে আছে॥

  • ভাবসন্ধান: শ্যাম-বিরহ-কাতরা রাধার ক্ষেদোক্তি এই গানে ফুটে উঠেছে হাহাকার হয়ে। এই গানের রাধা কল্প-বিহরিণী। শ্যামের সঙ্গ লাভে অধীর রাধা সেখানে হতে চান- যোগিণী, পথের ধূলি, শ্যামের গেরুয়া বসনের রঙ, রুদ্রাক্ষের মালা, নিজ দেহ পোড়ান চিতার ছাই। এ সব তিনি হতে চাওয়ার ভিতরে রয়েছে- কল্প-লোকের অভিলাষ। কিন্তু এই গানে সব ছাপিয়ে ওঠেছে শ্বাশত প্রেমের মধুর প্রেমের চিত্ররূপ।

    শ্যাম-সঙ্গহারা বিরহিণী রাধার কাছে সংসার সুখহীন কারাগার হয়ে গেছে। তাই সখিদের কাছে আত্ম-কৈফিয়তের গ্লানি নি্য়ে বলেছেন, কি সুখের আশায় তিনি ঘরে থাকবেন। শ্যামী যদি সংসার বিবাগী হয়ে যোগী হন, তবে তিনিও যোগিনী হয়ে তাঁর অনুগামিনী হবেন। যে গাছের নিচে শ্যাম যোগী হয়ে ধ্যানে বসবেন, সেখানে তিনি আঁচল পেতে যোগিনী হবেন। সংসার-বিবাগী শ্যাম যদি পথে নামেন, তিনি হবেন তাঁর পথের ধুলি। কারণ, তিনি যখন সে ধূলি দলিত করে চলে যাবেন, তখন ধূলিরূপিণী হয়ে তাঁর চরণ স্পর্শ করতে পারবেন।

    রাধা তাঁর সুখের গোধূলি বেলার রক্তিম রঙে রঞ্জিত করে দেবেন শ্যামের গেরুয়া বসন। অঙ্গ জড়িয়ে থাকা বসনের সাথে,  অনুরাগের রঙে রঞ্জিতা হয়ে তিনি শ্যামে সঙ্গসুখ লাভ করেন। শ্যামের সঙ্গলাভের আশাতেই তিনি কঠিন রুদ্রাক্ষের মালা হয়ে- ভুলে যাবেন তাঁর বিরহ-দগ্ধ প্রাণের জ্বালা। যোগী শ্যাম যখন শ্মশানের ছাই মেখে ধ্যানে বসবেন- তখন রাধা চিতার আগুনে নিজ দেহ পোড়ানো ছাই হয়ে তাঁর অঙ্গসঙ্গী হয়ে থাকবেন।

    রাধা মৃত্যকে ভয় পান না। কারণ বিরহের আগুনে পুড়ে তিনি জীবদ্দশাতেই ছাই গেছেন। আর শ্যাম চলে গেছেন, তাই তাঁর মনে শ্যাম রয়ে গেছেন ছায়াসঙ্গী হয়ে।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ (ডিসেম্বর ১৯২৯) মাসে প্রকাশিত 'চোখের চাতক' সঙ্গীত-সংকলনে গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩০ বৎসর ৬ মাস।
  • গ্রন্থ:
    • চোখের চাতক
      • প্রথম সংস্করণ [কার্তিক ১৩৩৬ (ডিসেম্বর ১৯২৯)। গান ২৫। কীর্তন]
      • নজরুল-রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ফাল্গুন ১৪১৩। ফেব্রুয়ারি ২০০৭। চোখের চাতক। গান ২৫। কীর্তনপৃষ্ঠা: ২১১-২১২।]
    • নজরুল গীতিকা
      • প্রথম সংস্করণ [ভাদ্র ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩০। কীর্তন । পৃষ্ঠা ৯৬-৯৮]
      • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। তৃতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা ফাল্গুন ১৪১৩/মার্চ ২০০৭।]  নজরুল গীতিকা।  কীর্তন। ৭৯।  পৃষ্ঠা: ২২৩-২২৬]
  • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৮৮৬। তাল: ফেরতা (দাদরা, ঝাঁপ ও কাহারবা। পৃষ্ঠা: ২৭৩]
  • আহসান মুর্শেদ [ নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, ত্রিশতম খণ্ড,  নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা।  আষাঢ়, ১৪১৩/জুলাই ২০০৬]  [নমুনা]
  • নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, আটচল্লিশতম খণ্ড। স্বরলিপিকার: ইদ্‌রিস আলী। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, কার্তিক ১৪২৬। নভেম্বর ২০১৯। পৃষ্ঠা: ৮৯-৯৪  [নমুনা]
     
  • রেকর্ড:
    • এইচএমভি। অক্টোবর ১৯৩০ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৩৭)। এন ৩১৩৫। শিল্পী: আশ্চর্যময়ী দাসী। সুরকার: নজরুল ইসলাম [শ্রবণ নমুনা]
    • এইচএমভি। জুন ১৯৩৭ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৪)। এন ৯৯১৬। শিল্পী হরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। সুরকার নজরুল ইসলাম
  •  
  • সুরকার: নজরুল ইসলাম
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
  • সুরকার: নজরুল ইসলাম
     
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। রাধা-কৃষ্ণ লীলা। বিরহ
    • সুরাঙ্গ: কীর্তন

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।