আল্লাহ্ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয় (allah amar probhu)
আল্লাহ্ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়।
আমার নবি মোহাম্মদ, যাঁহার তারিফ জগৎময়॥
আমার কীসের শঙ্কা,
কোরআন আমার ডঙ্কা,
ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়॥
কলেমা আমার তারিজ, তৌহীদ আমার মুরশিদ,
ইমান আমার বর্ম, হেলাল আমার খুরশিদ।
‘আল্লাহ্ আকবর’ধ্বনি
আমার জেহাদ-বাণী,
আখের মোকাম ফেরদৌস খোদার আরশ যথায় রয়॥
- ভাবাসন্ধান: যে সকল বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠিত, তার প্রতো দৃঢ় আস্থা রাখা এবং তা মান্য করাই ইমান। এই গানে সেই ইমানের অঙ্গগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মের ইমানের ভিত্তি হলো- আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রভু না। তিনি পরমত্রাতা। তাই আল্লাহকে যিনি বিশ্বাস করেন তাঁর কাছে কোনো কিছুই ভয়ঙ্কর নয়। ইমানের দ্বিতীয় শর্ত- হজরত মুহম্মদ (সাঃ) আল্লার প্রেরিত নবী। যিনি জগতে জগৎময় প্রশংসিত। ইমানের তৃতীয় শর্ত- আসমানি কিতাব হিসেবে কুরআনকে মান্য করা। ইসলামের আদর্শ প্রচারক ডঙ্কা-ধ্বনি হলো কুরআনের বাণী। এ সকল বিশ্বাসের একীভূত নাম ইসলাম। এসব কবি মান্য করেন বলেই এই গানে তিনি পরম গৌরবের সাথে নিজেকে মুসলমান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
কলেমা হলো ইসলাম ধর্মের মূল মন্ত্র। যে মন্ত্রে বলা হয়- আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয় এবং হজরত মুহম্মদ (সাঃ) আল্লার প্রেরিত নবী। এই মন্ত্রই কবির কাছে তাবিজের মতো। কবির কাছে তইহিদ (একেশ্বর) একমাত্র তাঁর আধ্যত্মিক গুরু। এই ইমানই অন্য সকল মতাদর্শ থেকে বর্মের মত রক্ষা করবে। ইসলামী দুনিয়ায় চান্দ্রমাস অনুসরণ করে হয়। তাই ধরমাচারণে সূর্যের চেয়ে চাঁদকেই ধর্ম-নির্দেশক মহাজাগতিক আধ্যাত্মিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মান্য করা হয়। তাই কবির কাছে নতূন চাঁদই তাঁর খুরশিদ (সূর্য)।
কবির কাছে ধর্ম রক্ষার জেহাদ-বাণী বা শ্লোগান হলো- ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি। যে ধ্বনি মধ্যে রয়েছে- আখের (পরকাল), মোকাম (আধ্যত্মিক স্থান, সুফিবাদে ১৮ প্রকার মোকামের উল্লেরখ রয়েছে), ফেরদৌস (অপরিসীম সুখের উদ্যান), খোদার আরশ (খোদা যে উচ্চতম স্থানে অবস্থান করেন)।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ অক্টোবর (শনিবার ২৯ আশ্বিন ১৩৩৯), ' জুলফিকার' নামক গীতি-গ্রন্থে গানটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৩ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ:
- জুলফিকার
- প্রথম সংস্করণ। ১৫ অক্টোবর ১৯৩২ (শনিবার ২৯ আশ্বিন ১৩৩৯)। ১১ সংখ্যক গান। ভৈরবী-কার্ফা
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৪, মে ২০০৭, জুলফিকার। ১১ সংখ্যক গান। ভৈরবী-কার্ফা। পৃষ্ঠা: ২৯৭।
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। ১১১৫ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৩৪০-৩৪১।
- নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি ঊনপঞ্চাশতম খণ্ড । স্বরলিপিকার: ইদ্রিস আলী। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, কার্তিক ১৪২৬। নভেম্বর ২০১৯। পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৬ [নমুনা]
- জুলফিকার
- রেকর্ড: এইচএমভি [মে ১৯৩৩ (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৩৪০)]।এন ৭১০৯। শিল্পী: আব্বাসউদ্দিন আহমদ
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: ইদ্রিস আলী। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত গানের [শিল্পী: আব্বাসউদ্দিন আহমদ] সুরানুসারে স্বরলিপিটি নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি ঊনপঞ্চাশতম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। [নমুনা]
- পর্যায়: