জগজন মোহন সঙ্কটহারী (jogojon mohon shonkothari)

জগজন মোহন সঙ্কটহারী
কৃষ্ণমুরারী শ্রীকৃষ্ণমুরারী।
রাম রচাও ত শ্যামবিহারী
পরম যোগী প্রভু ভবভয়-হারী॥
গোপী-জন-রঞ্জন-ব্রজ-ভয়হারী,
পুরুষোত্তম প্রভু গোলক-চারী॥
বন্শী বাজাও ত বন বন-চারী
ত্রিভুবন-পালক ভক্ত-ভিখারি,
রাধাকান্ত হরি শিখি-পাখাধারী –
কমলাপতি জয় গোপী-মনহারী॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানটিতে বিশ্বের পালনকর্তা বিষ্ণুর বন্দনা করা হয়েছে তাঁর বিশেষ কিছু মহিমার মাধ্যমে। তারপরেও এই গানে প্রাধান্য পেয়েছে বিষ্ণু এবং তাঁর অবতার শ্রীকৃষ্ণ। এই বিচারে তাঁর দ্বৈত স্বত্তার প্রাধান্য পেয়েছে এই গানে।

    জগতের সকল সঙ্কট মোচনকারী বলে তিনি সঙ্কটহারী এবং  জগতের কল্যাণকর মোহে মোহিত রাখেন বলে জগজন মোহন। মুর নামক অসুরকে হত্যা করে বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণ মুরারী নামে খ্যাত হয়েছিলেন। রাম ছিলেন তাঁর অবতার এবং শ্যাম রূপে তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন বলে শ্যামবিহারী। তিনিই একমাত্র পরমযোগী এবং সকল ভয় হরণকারী।

    তিনি কৃষ্ণরূপে ছিলেন গোপী-জন-রঞ্জনকারী এবং তিনি অলৌকিকক্ষমতার দ্বারা বিপন্ন ব্রজধামের সকল আশঙ্কা দূর করেছিলেন। আবার তিনি গোলকধামে বিরাজ করেন পুরুষোত্তম রূপে। তিনি ব্রজধামে প্রেমের বাঁশীতে সুর তোলেন, আবার তিনিই ত্রিভুবনের প্রতিপালক হয়েও ভক্তের কাছে হয়ে উঠেছেন প্রেম-ভক্তির ভিখারী। তিনি ব্রজধামে রাধার অংশভাগী সখা। সেখানে তিনি ময়ূরে পাখা শিরে ধারণ করে রাধার পাশে বিরাজ করেন। আবার তিনিই কমলা (লক্ষ্মী) স্বামী হয় গোলকধামে বিরাজ করেন। তাই গানটির শেষে কবি কমলাপতি বিষ্ণু এবং গোপী-মনহারী কৃষ্ণের জয়ধ্বনি দিয়েছেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৪) মাসে, এচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড করা হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৯ মাস।
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর ২৪৫৮ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৭৫৯।
  • রেকর্ড: এইচএমভি [মার্চ ১৯৩৮ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৪)। এন ১৭০৫৬। শিল্পী: রেণু বসু। সুর সত্যেন চক্রবর্তী]
     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
  • পর্যায়
    • বিষয়াঙ্গ:  ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু বন্দনা।
    • সুরাঙ্গ: ভজন
    • তাল: কাহারবা
    • গ্রহস্বর: মপ

 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।