জয় কৃষ্ণ-ভিখারিনী তুলসী হরি-শিব-বিহারিণী তুলসী (joy krishno-vikharini tulshi)
জয় কৃষ্ণ-ভিখারিনী তুলসী হরি-শিব-বিহারিণী তুলসী।
জয় কল্পতরু সমা বিষ্ণুর মনোরমা কলির কলুষ-বারিণী তুলসী॥
অভিষ্ট-দায়িণী তুমি বসুধায়
শ্রেষ্ঠ পুষ্প তুমি দেব-পূজায়,
তপে ও জপে তুমি মন্ত্র-শক্তি রূপা ভক্তি-প্রেম সঞ্চারিণী তুলসী॥
তীর্থসমূহ মাগো তোমার কাছে
আত্মশুদ্ধি তরে শরণ যাচে,
সকল কর্ম হয় নিষ্ফল ত্রিলোকে তোমার প্রসাদ বিনা তারিণী তুলসী॥
শুদ্ধ সত্ত্বা রূপা তপস্যা মগ্না
বিরাজ দীনা বেশে মন্দির-লগ্না,
হে হরি-বল্লভে, তব দীন পল্লবে অনন্ত নারায়ণ-ধারিণী তুলসী॥
- ভাবসন্ধান: এই গানটি তুলসী দেবীর স্তবধর্মী ভক্তিগান। এখানে তুলসীকে শুধু একটি পবিত্র বৃক্ষ নয়, দেবী ও ভক্তির প্রতীক রূপে কল্পনা করা হয়েছে।
এই গানের তুলসী দেবী কৃষ্ণপ্রিয়া। ভগবান কৃষ্ণ যেন তাঁর প্রেমের ভিখারি। তিনি হরি (বিষ্ণু) ও শিবের প্রিয় এবং তাঁদের সান্নিধ্যে বিরাজমান। তিনি কল্পতরুর মতো ইচ্ছাপূরণকারী, বিষ্ণুর অতি প্রিয়া। কলিযুগের পাপ ও কলুষ দূর করেন। তাই গানের শুরুতে তাঁর নামে জয়ধ্বনি দেওয়া হয়েছে।
পৃথিবীতে তিনি মনস্কামনা পূরণকারী। দেবতার পূজায় তুলসী পত্র শ্রেষ্ঠ নিবেদন। সমস্ত তীর্থ যেন তাঁর কাছেই আশ্রয় চায়। আত্মশুদ্ধির জন্য ভক্তেরা তাঁর শরণাপন্ন হয়। তাঁর কৃপা ছাড়া তিন লোকের (স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল) কোনো কর্মই সিদ্ধ হয় না। তিনি পবিত্র সত্ত্বগুণের প্রতীক, তপস্যায় মগ্ন। সাধারণ ও বিনয়ী রূপে মন্দিরে অবস্থান করেন। তিনি হরির প্রিয়া, তাঁর পল্লব বা পত্রে অনন্ত নারায়ণ অধিষ্ঠিত।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৪০৫ গান। পৃষ্ঠা: ৪২৪।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। বন্দনা। তুলসী দেবী।