জয় মুক্তিদাত্রী কাশী বারানসী (joy muktidatri kashi baranoshi)
জয় মুক্তিদাত্রী কাশী বারানসী।
নিত্য দেবাদিদেব শিব শোভিতা বেষ্টিতা বরুণা-অসি॥
তব পুণ্যে মর্ত্য হল স্বর্গভূমি,
সকল তীর্থের তীর্থ তুমি।
যোগী-ঋষি-বাঞ্ছিতা ত্রিলোক পূজিতা
বিভূষিতা ত্রিশূল অর্ধশশী॥
- ভাবসন্ধান: এই গানটিতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান কাশীধাম বা বারাণসীর আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য ও সৌন্দর্য উপস্থাপন করা হয়েছে। গানটির প্রতিটি চরণে এই পবিত্র নগরীর পৌরাণিক এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
গানের শুরুতেই বারাণসীকে 'মুক্তিদাত্রী' বলা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কাশীতে দেহত্যাগ করলে পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভ হয়। তাই একে পরম শান্তির এবং মুক্তির স্থান হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস- বারাণসী মহাদেবের অতি প্রিয় নগরী। এখানে তিনি সর্বদা বিরাজমান (শিব শোভিতা)। এই নগরীর অবস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে, শহরটি 'বরুণা' এবং 'অসি' নামক দুটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই দুই নদীর মিলনস্থলেই 'বারাণসী' নামের উৎপত্তি, যা গানে অত্যন্ত নিপুণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাশীর পুণ্যপ্রভাবে মর্ত্যলোক (পৃথিবী) যেন স্বর্গে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে যত তীর্থস্থান আছে, তার মধ্যে কাশীকে শ্রেষ্ঠ বা 'সকল তীর্থের তীর্থ' হিসেবে গণ্য করা হয়। এই নগরী এতটাই শুদ্ধ যে কবি মনে করেন এর ধুলিকণাতেও যেন পবিত্রতা মিশে আছে। প্রাচীনকাল থেকেই এই নগরী যোগী, ঋষি এবং সাধকদের প্রধান আকাঙ্ক্ষিত বিচরণক্ষেত্র (যোগী-ঋষি-বাঞ্ছিতা) ছিল। শুধু পৃথিবীতে নয়, স্বৰ্গ-মর্ত্য-পাতাল- এই ত্রিলোকের মানুষ ও দেবতারা এই স্থানকে পূজা করেন।
গানের শেষে শিবের রূপের সাথে কাশীর রূপকে এক করে দেখা হয়েছে। শিবের হাতে যেমন ত্রিশূল এবং কপালে অর্ধচন্দ্র (অর্ধশশী) থাকে, বারাণসীও যেন সেই দিব্য অলংকারে বিভূষিতা। অর্থাৎ, পুরো শহরটিই শিবের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। গানটি শুধু একটি শহরকে নিয়ে নয়, বরং ভক্তের হৃদয়ে কাশীর প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা এবং শিবের প্রতি যে ভক্তি, তারই এক গীতিময় প্রকাশ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা মার্চ (রবিবার ১৯ ফাল্গুন ১৩৪৬), মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত 'অন্নপূর্ণা' নামক নাটক মঞ্চস্থ হয়। এই নাটকে এই গানটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। ধারণা করা হয়, নজরুল এই নাটকের জন্যই রচনা করেছিলেন। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৯ মাস।
- [ নজরুলের ৪০ বৎসর অতিক্রান্ত বয়সের গানের তালিকা]
- প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৮৯১। পৃষ্ঠা: ৫৭০। ]
- মঞ্চ
- অন্নপূর্ণা। মণিললাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নাটক। মিনার্ভা থিয়েটার, কলকাতা। [৩ মার্চ (রবিবার ১৯ ফাল্গুন ১৩৪৬)। চরিত্র: দেবকন্যাগণের গান]
- অন্নপূর্ণা। মণিললাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত নাটক। মিনার্ভা থিয়েটার, কলকাতা। [৩ মার্চ (রবিবার ১৯ ফাল্গুন ১৩৪৬)। চরিত্র: দেবকন্যাগণের গান]
- গ্রন্থ:
- সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলি
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। তীর্থ বন্দনা। কাশী
- পর্যায়