জয়তু শ্রীরামকৃষ্ণ নমো নমঃ (joytu sriramkrishno nomo nomo)
জয়তু শ্রীরামকৃষ্ণ নমো নমঃ
সর্ব-ধর্ম-সমন্বয়-কারী নব-রূপে অবতার পুরুষ পরম॥
ঈশ্বরে বিশ্বাস জানকীর প্রায়
বন্দিনী ছিল কামনার লঙ্কায়
উদ্ধারিলে তারে তোমার তপস্যায় শক্তিরে জাগাইয়া শ্রীরাম-সম॥
তোমা কথামৃত কলির নববেদ একাধারে রামায়ণ গীতা
বিবেকানন্দ মাঝে লক্ষণ অর্জুন শক্তি করিলে পুনজীবিতা।
ভূতারতের কলহের কুরুক্ষেত্রে
দাঁড়াইলে তুমি আসি সকরুণ নেত্রে
বাজালে অভয় পাঞ্চজন্য শঙ্খ,
বিনাশিলে অধর্ম, হিংসা, আতঙ্ক
প্রেম-নদীয়ায় তুমি নব-গৌরাঙ্গ সকল জাতির সখা, প্রিয়তম॥
- ভাবসন্ধান: এটি একটি শ্রীরামকৃষ্ণকে উদ্দেশ্য করে লেখা ভক্তিমূলক গান। গানটিতে শ্রীরামকৃষ্ণকে কলিযুগের অবতার, সর্বধর্ম-সমন্বয়কারী, শক্তি-জাগরণকারী ও মানবতার মুক্তিদাতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
গানটি শুরু হয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণের সশ্রদ্ধ সপ্রণাম জয়ধ্বনি দিয়ে। কারণ ভক্ত মনে করেন- শ্রীরামকৃষ্ণ সকল ধর্মের সমন্বয় সাধন করেছেন এবং নতুন রূপে অবতীর্ণ পরম পুরুষ বা ঈশ্বরের সর্বোত্তম অবতার হিসেবে।
রাবণের কামজ তাড়নায় যখন জানকীকে (সীতা) লঙ্কায় বন্দিনী করে রেখেছিল, তখন সীতা বিষ্ণুর অবতার রূপী রামের প্রতি অটল বিশ্বাস রেখেছিলেন। তখন রাম তাঁকে উদ্ধার করেছিলেন তপস্যার শক্তি সম্মুনত করে।
ভক্ত মনে করেন শ্রীরামকৃষ্ণের উপদেশমূলক গ্রন্থ কথামৃত, কলিযুগের নতুন বেদ। যাতে রয়েছে রামায়ণ ও গীতার সম্মন্নত বাণী। স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে তিনি লক্ষ্মণ ও অর্জুনের শক্তি সঞ্চালিত করেছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন রামের অনুগত ভাই লক্ষ্মণের মতোই শিষ্য ও অর্জুনের মতো। বিবেকানন্দকে দিয়ে তিনি ভারতের যুবশক্তি ও আধ্যাত্মিক জাগরণ ঘটিয়েছলেন এ গানে তারই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষে কলহ-বিবাদের অবস্থা হয়ে উঠেছিল কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধাবস্থার মতো। এই অবস্থায় শ্রীরামকৃষ্ণ ব্যথাতুর হৃদয়ে ভারতবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কৃষ্ণের পাঞ্চজন্য শঙ্খের মতো তাঁর আহ্বানে অধর্ম, হিংসা, ভয়-আতঙ্ক নাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি প্রেমের নদীয়াধামের (চৈতন্যদেবের নদীয়) মতো- নতুন গৌরাঙ্গরূপী প্রেমাবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সকল জাতি-ধর্মের সখা ও প্রিয়তম। - রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৬) মেগাফোনরেকর্ড কোম্পানি প্রথম গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশ করে। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৯ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১৮৯৫সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৫৭১।
- রেকর্ড: মেগাফোন [মার্চ ১৯৪০ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৬)। জেএনজি ৫৪৫৬। শিল্পী: ভবানী দাস। । সুর: নজরুল ইসলাম]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন ইন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। শ্রীরামকৃষ্ণ। বন্দনা