জাগো বৃষ ভানু নন্দিনী জাগো গিরিধারী (jago brisho vanu nondini jago giridhari)
জাগো বৃষ ভানু নন্দিনী জাগো গিরিধারী।
জাগাইতে দুখ পাই, তবুও জাগাই – মোরা শুকসারী॥
তোমরা না জাগিলে ভুবন জাগে না,
সংসার ধর্ম কর্ম থাকে না,
তোমরা কুঞ্জে যদি নিত্য মধু হয়ে, মহাভাব-নিমগ্ন।
আর কে বাজাবে বেণু আর কে চরাবে ধেনু
কে আনিবে আনন্দলগ্ন।
কে আনিবে রাসলীলা হরির মাতন
কে আনিবে ফুলদল মধুর ঝুলন।
রাই জাগো, জাগো জাগো, শ্যাম রাই জাগো জাগো॥
- ভাবসন্ধান: এটি একটি বৈষ্ণব ভাবধারার একটি জাগরণধর্মী কীর্তন। এখানে মূলত রাধা (বৃষভানু নন্দিনী) ও কৃষ্ণ (গিরিধারী)-কে জাগ্রত করার জন্য ভক্তরা আবেদন করছে। এ গানে শুক ও সারী পাখির রূপকার্থে তাদেরই প্রতিনিধি। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও তাদের জাগরণই বিশ্বজগতের আনন্দ, ধর্মকর্ম ও প্রেমময়তার উৎস; তাই ভক্তরা তাঁদের জাগ্রত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে এই গানের মধ্য দিয়ে।
এই গানে শুক সারীর রূপকতায়- ভক্তরা রাধা ও কৃষ্ণকে উদ্দেশ করে বলছে—হে বৃষভানুর কন্যা রাধা এবং হে গিরিধারী কৃষ্ণ, তোমরা জাগো। তোমাদের জাগাতে গিয়ে আমাদের কষ্ট হয়, কারণ তোমরা প্রেমমগ্ন হয়ে গভীর নিদ্রায় আছ। তবু আমরা তোমাদের জাগাই, কারণ তোমরা জাগ্রত না হলে সমগ্র জগৎও জাগ্রত হতে পারে না। জগতে ধর্ম, কর্ম ও জীবনের সমস্ত কার্যকলাপ তোমাদের লীলা ও উপস্থিতির উপরই নির্ভরশীল। যদি তোমরা কুঞ্জবনে প্রেমের মহাভাব-সমাধিতে নিমগ্ন হয়ে থাকো, তবে এই পৃথিবীতে আনন্দের স্রোত থেমে যাবে। তখন আর কেউ বেণু (বাঁশি) বাজাবে না, কেউ গরু চরাবে না। অর্থাৎ কৃষ্ণের সেই লীলাময় জীবনধারা আর থাকবে না। তখন পৃথিবীতে আনন্দময় মুহূর্ত আসবে না, রাসলীলা হবে না, প্রেম ও উৎসবের আবহ সৃষ্টি হবে না, ফুলে ফুলে ভরা মধুর ঝুলনোৎসবও আর ঘটবে না। এই কারণে ভক্তরা বারবার মিনতি করছে—হে রাই (রাধা, হে শ্যাম (কৃষ্ণ), তোমরা জাগো। কারণ তোমাদের জাগরণেই জগতে প্রেম, আনন্দ ও ঈশ্বরলীলার প্রকাশ ঘটে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১৮৯৯ সংখ্যক । রাগ: যোগিয়া, তাল: একতাল। পৃষ্ঠা: ৯২-৯৩।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। রাধকৃষ্ণ লীলা। ভক্তি