জাগো ব্যথার ঠাকুর ব্যথার ঠাকুর জাগো (jago byathar thakur)

জাগো     ব্যথার ঠাকুর ব্যথার ঠাকুর জাগো
                    হে পাষাণ দেবতা।
            তুমি না হরিলে, হরি,
                    কে হরিবে প্রাণের ব্যথা॥
            তুমি সব হরিলে,
            ওহে নিখিল-হরণ সব হরিলে।
            আমার যা-কিছু ছিল প্রিয়তম
            হরি হে,         সে-সব হরিয়া নিলে॥
            আমি             হয়েছি পথের ভিখারিনী,
                    রাজার রাণী নেমেছি ধূলায়
                            হয়েছি পথের ভিখারিনী।
তাই         শাপ দেই বড় দুঃখে,
তুমি         এই দুখিনীর সন্তান হ'য়ে
               আসিবে আমার বুকে।
তুমি আমার বক্ষে হাসিবে, কাঁদিবে
                খেলিবে, কহিবে কথা
        ব্রজের গোপাল! সেদিন ভুলিব
                আমার প্রাণের ব্যথা॥

  • ভাবসন্ধান: ধ্রুব চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এই গানে- গভীর ভক্তি ও বেদনাময় অনুভূতির প্রকাশ। এখানে এক দুঃখিনী ভক্ত তার সমস্ত প্রিয়জন হারিয়ে জগতের পালকর্তা হরির (বিষ্ণু) কাছে আর্ত-নিবেদন করছেন।

    দুঃখিনীর দুঃখ নিবারণে হরি তাঁর সহায় হন বি বলে- তিনি বিষ্ণুকে পাষাণ দেবতা নামে অভিহিত করেছেন। অতীতের বর্ণনাতীত বেদনা থেকে উদ্ধারে জন্য তিনি হরিকে পাষণ বিগ্রহ থেকে দুঃখনাসনাকারী হিসেবে জেগে ওঠার আহ্বান করেছেন এই গানে।

    ভক্তা তাঁর কাছে পরম আত্মনিবেদনে, অনুনয়ে তাঁকে বলছেন- যদি তিনি হৃদয়ের ব্যথা দূর না করো, তবে আর কে এই দুঃখ লাঘব করবে। কারণ তিনি অর্থাৎ যিনি দুঃখ ও পাপ হরণ করেন। অথচ তিনি ভক্তের জীবনে সকল দুঃখের পরিবর্তে- ভক্তের প্রিয় বিষয়- সুখ, আশা, প্রিয়জন হরণ করে নিয়েছন। ফলে ভক্তা সর্বস্বহারা হয়ে গেছেন।

    ভক্তা তাঁর অতীত স্মৃতি রোমন্থনে বলছেন- একসময় তিনি রাজার রাণীর মতো সুখে ছিলেন।  সব হারিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পথের ভিখারিণী হয়ে ধূলায় নেমে এসেছেন। এই গভীর দুঃখ ও অভিমানের বশে তিনি হরিকে এক অদ্ভুত শাপ দিয়ে বলছেন- তিনিও যেন দুঃখিনীর সন্তান হয়ে তাঁর বুকে বুকে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তিনি তাঁর বুকে হাসবেন, কাঁদবেন, খেলবেন এবং কথা বলবেন। যদি তিনি তাঁর সন্তান হয়ে ব্রজের গোপালরূপে তাঁর কাছে আসেন, তবে মাতৃস্নেহে তাঁকে লালন করতে করতে তিনি তাঁর সমস্ত প্রাণের ব্যথা ভুলে যেতে পারবেন।

    এই গানে ভক্তের ঈশ্বরের প্রতি গভীর প্রেম, অভিমান ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। সমস্ত দুঃখের মধ্যেও ভক্ত চান. যেন হরি তার জীবনে আসেন গভীরতর হয়ে ঘনিষ্ঠভাবে। তিনি মনে করেন হরি তাঁর জীবনে সন্তানরূপে পেলে, সেটাই হবে তাঁর পরম পাওয়া ।  

  • রচনাকাল ও স্থান: ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি ‘ধ্রুব’ নামক চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৭ মাস।

  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৮৯৮। চলচ্চিত্র: ধ্রুব। পৃষ্ঠা: ৫৭২]

  • চলচ্চিত্র: ধ্রুব। ক্রাউন টকি হাউস।  ১ জানুয়ারি ১৯৩৪ (সোমবার, ১৭ পৌষ ১৩৪০)। সুনীতির গান। শিল্পী আঙ্গুরবালা

  • পর্যায়:

    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু। প্রার্থনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।