জ্বালো দেয়ালি জ্বালো অসীম তিমিরে (jwalo deyali jwalo oshim timire)

জ্বালো দেয়ালি জ্বালো
অসীম তিমিরে শ্যামা মা যে অযুত কোটি আলো॥
                এলো শক্তি অশিব নাশিনী
                এলো অভয়া চির বিজয়িনী
কালো রূপের স্নিগ্ধ লাবনি নয়ন মন জুড়ালো॥
গ্রহ তারার দেওয়ালি জলিছে পবনে
জ্বালো দীপালি জীবনের সব ভবনে।
                এলো শিবানী প্রাণ দিতে সবে
                নাশিতে লোভী পাপ দানবে
রক্ষা করিতে পীড়িত মানবে ধরারে বাসিতে ভালো॥

  • ভাবসন্ধান: শ্যামার উদ্দেশ্যে নিবেদিত দেয়ালি উৎসব মহিমা এই গানে উপস্থাপন করা হয়েছে।  শ্যামাপূজার দেয়ালির আলো হলো জ্ঞান, শক্তি ও মুক্তির প্রতীক। দেবীর আগমন মানেই অন্ধকারের অবসান, অশুভ শক্তির ধ্বংস এবং মানুষের জীবনে আলো, শক্তি ও আশার সঞ্চার।

    তাই কবি সবাইকে দীপ জ্বালানোর আহ্বান করা হয়েছে। কারণ অসীম অন্ধকারে শ্যামা তাঁর অসংখ্য আলোর উৎস হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর আগমনে চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়েছে।

    তিনি শক্তিরূপা, অশুভ শক্তির বিনাশিনী এবং ভক্তদের অভয়দাত্রী চিরবিজয়িনী দেবী। তাঁর গাঢ় কালো রূপের মধ্যেও এক অপূর্ব স্নিগ্ধ সৌন্দর্য আছে, যা মানুষের মন ও চোখকে তৃপ্ত করে।

    এই আনন্দময় মুহূর্তে যেন সারা বিশ্বে আলোর উৎসব শুরু হয়। আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রগুলোও যেন দীপাবলির মতো জ্বলতে থাকে। তাই কবি মানুষের জীবনের প্রতিটি ঘর ও অন্তরেও দীপ জ্বালিয়ে, অন্ধকার দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    দেয়ালিতে দেবী শিবানী (শিবের শক্তিরূপা) মানুষের মধ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করার জন্য আসেন। কবি মনে করেন, পৃথিবীকে ভালোবাসা ও কল্যাণের জন্য তিনি লোভী ও পাপী দানবদের বিনাশ করবেন এবং দুঃখে-পীড়িত মানুষকে রক্ষা করবেন।  
     

  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।  ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার, ১ আশ্বিন ১৩৪২) টু্ইন রেকর্ড কোম্পানি'র সাথে নজরুলের চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিপত্রে গানটি ছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৪ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ৩৮০।
  • রেকর্ড:
    • রেকর্ড সাথে চুক্তিপত্র। [১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ (বুধবার,১ আশ্বিন ১৩৪২)
    • টুইন [নভেম্বর ১৯৩৬ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪২)। এফটি ৪৬৪৯। শিল্পী: ইন্দু সেন। 
       
  • স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: সুধীন দাশ।  [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, ত্রয়োদশ খণ্ড। প্রথম সংস্করণ। নজরুল ইন্সটিটিউট । জ্যৈষ্ঠ ১৪০১/মে ১৯৯৪। ১২ সংখ্যক গান] [নমুনা]
     
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শ্যামা। আগমনী
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের সুর

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।