টুটি' স্বপন-বিলাস ফুটিল রৌদ্র-দগ্ধ মরুর কাতরতা (tuti shwopono-bilash futilo)

টুটি' স্বপন-বিলাস ফুটিল রৌদ্র-দগ্ধ মরুর কাতরতা,
ছিল লুকায়ে ব্যথা 
 প্রাণে গোপন অন্তরালে।
তুমি পরশি' সে-ব্যথা সহসা প্রকাশ-আলোকে জাগালে॥
একি বেদনা একি ভাষা!
আকাশের পাখি ব্যথার ধূলায় মানুষের দুখে বাঁধিল বাসা।
তুমি সৃজিলে বেদনা-গীতা
ভস্ম-বিভূতি হে শিব এ কোন্‌ সাধনা জ্বালিয়া চিতা?
তুমি ভৈরব যুগ-সম্ভব, তুমি সুন্দর,
আরো শোনাও তোমার উদাত্ত সুর
বিপুল বেদনার মন্থর, ওহে সুন্দর॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে গভীর মানবিক বেদনা, জাগরণ এবং সৃষ্টিশীলতার আধ্যাত্মিক উৎসকে প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে বেদনা কেবল দুঃখ নয়- তা এক ধরনের সৃজনশক্তি ও সাধনার রূপ। গানে বিশেষভাবে শিব -এর তপস্যা ও ভৈরব রূপের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।

    কবির জীবনে স্বপ্নময় সুখের বিলাস ভেঙে গেছে। ফলে তার জীবন হয়ে উঠেছে রৌদ্রে দগ্ধ মরুভূমির মতো শুষ্ক ও কাতর। অন্তরের গভীরে যে ব্যথা লুকিয়ে ছিল, তা বাইরে প্রকাশ পায়নি। কিন্তু কোনো এক মহান সত্তার স্পর্শে সেই ব্যথা হঠাৎ জেগে উঠেছে। কবির মনে এই জাগরণ এক অদ্ভুত অনুভূতি সঞ্চার করেছে। ফলে তাঁর মনে নতুন এক ভাষা ও নতুন এক বেদনার জন্ম দিয়েছে।

    আকাশের স্বাধীন পাখির মতো মুক্ত সত্তাও যেন মানুষের দুঃখের ধূলায় নেমে এসে বাসা বেঁধেছে, অর্থাৎ উচ্চ, মহৎ চেতনা মানবজীবনের বেদনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। এই বেদনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে 'বেদনা-গীতা' অর্থাৎ দুঃখ থেকেই জন্ম নিয়েছে শিল্প ও সঙ্গীত। কবি প্রশ্ন করেন, সেই পরমসত্তারূপী শিবের কাছে। কবির প্রশ্ন তোমার ভস্ম-বিভূতি ও চিতার আগুনের মতো এই কঠিন সাধনা কেন? অর্থাৎ কেন এই দহন ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই সৌন্দর্য ও সৃষ্টির জন্ম হয়? শেষে প্রার্থনা করে বলেন- 'তুমি যুগের ভৈরব, আবার তুমিই সুন্দর। তোমার সেই মহান, উদাত্ত সুর আরও শোনাও'। কবির এই প্রার্থনার কারণ, তাঁর মরমী মনের চৈতন্যবোধ থেকে উৎসরিত। তিনি  অনুভব করেন- মানুষের বিশাল বেদনার গভীরতা থেকেই ধীরে ধীরে মহৎ সৌন্দর্যের সুর ধ্বনিত হয়।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৪৩০। পৃষ্ঠা: ৪৩১]
  • পর্যায়
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতনধর্ম। শাক্ত। শিব। প্রার্থনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।