ঠাকুর তোমায় মালা দেব (thakur tomay mala debo)
মণি : ঠাকুর তোমায় মালা দেব ফুল তুলি আজ তাই
কুশ : যত তুলি তত ভাবি আরো যদি পাই॥
মণি : ফুল তুলি আর আমি ভাবি
অনেক বেশি আমার দাবি
ফুলের সাথে আমায় তোমার পায়ে দিও ঠাঁই।
ওগো ঠাকুর! আমায় তোমার পায়ে দিও ঠাঁই॥
- ভাবসন্ধান: মন্মথ রায়ের নাটকের দুই পাত্র-পাত্রী তাদের সংলাপের মধ্য দিয়ে ঠাকুরের প্রতি তাদের গভীর ভক্তি ও আত্মসমর্পণের অনুভূতি প্রকাশ করেছে।
এ্ নাটকের মণি বলছে, সে আজ তার ঠাকুরের জন্য ফুল তুলে মালা গাঁথতে চায়। এই ফুল সংগ্রহের কাজটি শুধু বাহ্যিক পূজার প্রস্তুতি নয়, বরং ভক্তির প্রতীক। অন্যদিকে কুশ বলছে, যতই ফুল তোলা হয়, ততই মনে হয় আরও ফুল পাওয়া গেলে ভালো হতো। অর্থাৎ ঠাকুরের পূজার জন্য যত কিছুই করা হোক না কেন, তা যেন যথেষ্ট মনে হয় না। এরপর মণি নিজের মনের কথা প্রকাশ করে বলে- ফুল তুলতে তুলতে তার মনে হয়, তার দাবি যেন আরও বড়। সে শুধু ফুলের মালা দিতে চায় না; বরং ফুলের সঙ্গে নিজেকেও ঠাকুরের চরণে সমর্পণ করতে চায়। তাই সে প্রার্থনা করে, ফুলের সঙ্গে যেন তাকেও ঠাকুর পায়ের কাছে স্থান দেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ ১৩৪২) মাসে, মন্মথ রায়ের, রচিত নাটক 'নরমেধ' টুইন রেকর্ড কোম্পানি প্রকাশ করেছিল। এই নাটকে গানটি ছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৭ মাস।
- রেকর্ড: টুইন। নরমেধ (নাটক)। নাট্যকার: মন্মথ রায় [জানুয়ারি ১৯৩৬ (পৌষ-মাঘ ১৩৪২)। এফটি ৪২০৬। চরিত্র: মণিমালা ও কুশধ্বজ। শিল্পী: তারকবালা ও হরিমতী]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: সুধীন দাশ [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, আটাশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। আষাঢ়, ১৪১৩/জুলাই ২০০৬] ১৬ সংখ্যক গান। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিব্দুধর্ম। সাধারণ। আত্মনিবেদন ভক্তি। [নাট্যগীতি]
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: র্সনা