তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে (taposhini gouri kande bela sheshe)
তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে,
উপবাস-ক্ষীণ তবু যোগিনী বেশে॥
বুকে চাপি' করতল বিল্বপত্র-দল,
কেঁপে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে শিব-আবেশে॥
অস্ত রবি তা'র সহস্র করে
চরণ ধ'রে বলে ফিরে যেতে ঘরে,
'শিব দাও শিব দাও' ব'লে লুটায় ধূলি-তলে ─
কৈলাস-গিরি পানে চাহে অনিমেষে॥
- ভাবসন্ধান: সনাতন হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক কাহিনি থেকে জানা যায়, শিবকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য গৌরী (দুর্গা) কঠোর তপস্যা করেছিলেন। এই তপস্যার কোনো এক দিনের শেষ বেলার চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে এই গানে। ধ্যানমগ্ন শিবকে না পাওয়ার বেদনায় তিনি কাতরা, উপবাসে তাঁর দেহ হয়েছে ক্ষীণ। তবু যোগিনীর মতো তিনি শিবকে তপস্যার দ্বারা পাওয়ার কামনায় অবিচলা। ‘উপবাস-ক্ষীণ’ এবং ‘যোগিনী বেশ’—এই দুটি শব্দ যে গৌরীর আত্মিক এবং শারীরিক সাধনার পরিচয় বহন করে।
শিব-পূজার উপাচার হিসেবে বেল-পাতা বুকে ধরে, তিনি শিবের পরশ অনুভবে ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠেন।এর মধ্য দিয়ে শিবের প্রতি তাঁর ব্যাকুলতা ও সমর্পণের একটি অপূর্ব চিত্রককল্প ফুটে উঠেছে এই গানে। এখানে শিবের পরশ প্রত্যক্ষ নয়। শিবকে স্বামীরূপে পাওয়ার কামনা, ও প্রেমময় ভক্তির আবেগে আবেশিত হয়ে তিনি শিহরিত হয়েছেন।
বেলাশেষে শেষ-সূর্যের শেষ সহস্র আলোক রেখা গৌরীকে ঘরে ফিরে যেতে বলে। সে অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি কৈলাস গিরির দিকে চেয়ে থাকেন অনিমেষে, 'শিব দাও শিব দাও' বলে সকাতরে ধুলায় লুটিয়ে পড়েন শিবের চরণ তলে। এই প্রার্থনার সকাতর নিবেদন, শিবকে না পাওয়ার হাহাকার- এসবই গভীরভাবে শ্রোতার হৃদয়কেও সকরুণ শৃঙ্গার ও ভক্তিরসে অভিষিক্ত করে তোলে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। নজরুলের সুস্থাবস্থায় কোনো গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয় নি।
- গ্রন্থ:
- স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। দুর্গা, তাপসিনী
- সুরাঙ্গ: ধ্রুপদাঙ্গ
- গ্রহস্বর: প