তুমি কাঁদাইতে ভালোবাস (tumi kandaite valobasho)

তুমি কাঁদাইতে ভালোবাস আমি তাই নিশিদিন কাঁদি। (শ্যাম)
তুমি নিত্য নূতন বেদনার ডোরে রেখেছ আমারে বাঁধি। (বঁধু)
বঁধু তোমারি করে’ রেখেছ আমারে বাঁধি’ যদি সংসার-কাজে ভুলে যাই
তব নাম নিতে যদি ভুলে যাই
তুমি আঘাতের চলে পরশ দিয়া জানাও তুমি ভোল নাই’
জানাও তুমি ভোল নাই।
তুমি যে রাধার আরাধনা, নাথ তুমি যে আমার সাধনা,
মিলন তোমার মধুর হে প্রিয় অধিক মধুর বেদনা॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে শ্যামের (শ্রীকৃষ্ণ) এক পরম ভক্তের  বিরহ ও বেদনাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাধক মনে করেন, শ্যাম তাঁকে কাঁদাতে ভালোবাসেন; তাই তাঁর জীবন যেন অশ্রু ও বেদনার এক অনন্ত সাধনায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই কান্না সাধারণ দুঃখের কান্না নয়—এটি ভক্তির কান্না, প্রেমের কান্না এবং কৃষভক্তের আকুল আর্তি।

    সাধক কবি অনুভব করেন, পরমপ্রিয় শ্যাম তাঁকে নিত্যনতুন বেদনার বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছেন। বিচ্ছেদের এই বেদনা, যা ভক্তকে সবসময় শ্যমকে স্মরণ করার জন্যাই জাগ্রত রাখে। মানুষ সংসারের নানা কাজে ডুবে গিয়ে অনেক সময় তার  ভুলে যায়। কিন্তু ঈশ্বর তাঁর ভক্তকে ভুলতে দেন না। তাই কখনো দুঃখ, কখনো আঘাত, কখনো বিরহের মাধ্যমে তিনি ভক্তকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি এখনও ভক্তের অন্তরে বিরাজমান আছেন।

    “তুমি আঘাতের চলে পরশ দিয়া জানাও তুমি ভোল নাই”—এই পংক্তিতে গভীর আধ্যাত্মিক সত্য প্রকাশ পেয়েছে। এখানে আঘাত মানে কেবল কষ্ট নয়; বরং তা শ্যামের করুণাময় স্পর্শ। ভক্ত যখন পথভ্রষ্ট হতে থাকে, তখন দুঃখ ও বেদনার মধ্য দিয়েই শ্যাম তাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে আনেন। অর্থাৎ বেদনা এখানে শাস্তি নয়, বরং প্রেমের আহ্বান।

    কবি শ্যামকে রাধার আরাধ্য এবং নিজের সাধনার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। রাধার মতো তিনিও প্রেমময় ভক্তির মাধ্যমে শ্যামকে লাভ করতে চান। তিনি কেবল মিলনেই আনন্দ খুঁজে পান না; বরং বিরহের বেদনাকেও অধিক মধুর বলে অনুভব করেন। কারণ এই বিরহই তাঁর প্রেমকে গভীর ও চিরজাগ্রত রাখে।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৯১৩। পৃষ্ঠা: ৫৭৭]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: র্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। আত্মনিবেদন। অজ্ঞাতা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।