তুমি দিলে দুঃখ অভাব (tumi dile dukkho ovab)
তুমি দিলে দুঃখ অভাব তুমিই কর ত্রাণ
দনের বন্ধু, মঙ্গলময় শরণাত প্রাণ॥
যখন পরম নির্ভরতায়,
শরণ যাচি তোমারি পায়
তুমি, আপন হাতে বিনাশ কর সকল অকল্যাণ॥
আমি অহঙ্কারে রাখতে যাহা চাই হে আমার ব’লে
হরণ ক’রে লও তুমি তা’ ভাসিয়ে চোখের জলে।
তাই তো আমার সংসার ভার,
প্রভু তোমায় দিলাম এবার
আমার ব’লে-রইল শুধু তোমার নাম-গান॥
- ভাবসন্ধান: ভক্তের এক গভীর আত্মসমর্পণ, দুঃখের মধ্যেও পর্মসত্তার প্রতি বিশ্বাস এবং অহংকার ত্যাগের সাধনার বিষয়ই উপস্থাপিত হয়েছে এই গানে। কবি উপলব্ধি করেছেন—জীবনের সুখ-দুঃখ, অভাব-বিপদ সবই পরমকরুণাময় পর্মসত্তার দান। আবার তিনিই সেই দুঃখ থেকে মুক্তির পথও দেখান। তাই তিনি পরমসত্তাকে 'দীনের বন্ধু' ও 'মঙ্গলময়' বলে সম্বোধন করেছেন।
যখন সাধক কবি সমস্ত নির্ভরতা ছেড়ে একান্তভাবে সেই পরমসত্তার শরণ নেন, তখন তিনিই সাধকের জীবনের সকল অকল্যাণ দূর করেন।
মানুষ সংসারের নানা বস্তু, সম্পর্ক বা সম্পদকে 'আমার' বলে অধিকারের অহঙ্কারে আঁকড়ে রাখতে চায়। পরমসত্তা সেই মায়াবন্ধন ভেঙে দিয়ে সকল অহঙ্কার হরণ করে নেন। মানুষ সর্বহারা হয়ে বেদনার্ত হয়ে ওঠে। এই হরণ আসলে নিষ্ঠুরতা নয়; বরং মানুষকে অহংকারমুক্ত ও সত্যের পথে ফিরিয়ে আনার এক পরম করুণমায়ের উপহার।
ভক্ত জীবনের সমস্ত সংসার-ভার ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করেন। তিনি বুঝেছেন, “আমার” বলে রাখার মতো কিছুই আসলে নেই। তাই নিজের বলে শুধু পরমসত্তার নামগানকেই রেখে দিয়েছেন। অর্থাৎ, জাগতিক আসক্তি ত্যাগ করে ভক্তি ও পরমসত্তার স্মরণই তাঁর জীবনের একমাত্র আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১৯১৫। পৃষ্ঠা ৫৭৭]
- রেকর্ড: কলম্বিয়া [জুন ১৯৪৯ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৫৬)। জিই ৭৫১২। শিল্পী: উত্তরা দেবী। সুরকার: নিতাই ঘটক]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। আত্মনিবেদন