তুমি যতই দহ না দুখের অনলে (tumi jotoi doho na dukher onole)

তুমি যতই দহ না দুখের অনলে আছে এর শেষ আছে।
আগুনে পুড়িব নির্মল হব যাব চরণের কাছে॥
             দহনের শেষে বরষা আসিবে
             করুণা ধারায় হৃদয় ভাসিব,
এ-দিন রবে না, কুসুম ফুটিবে আবার শুষ্ক গাছে॥
তব ললাটের আগুন যখন পেয়েছি হে সুন্দর!
পাইব করুণা-জাহ্নবী-ধারা শীতল চাঁদের কর।
            (ওগো) মঙ্গলময়, আঘাতের ছলে
            স্মরণ করায়ে দাও পলে পলে
এতদিন পরে আবার আমারে তব মনে পড়িয়াছে॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে ভক্তির এক গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে দুঃখ, আঘাত ও বেদনা কোনো অভিশাপ নয়; বরং যেন তা আত্মশুদ্ধি ও পরমসত্তাকে পাওয়ার এক অপরিহার্য মাধ্যম।

    গানের প্রথমাংশে ভক্ত দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে বলেন—দুঃখের দহন চিরস্থায়ী নয়; এরও শেষ আছে। এই দহনকে তিনি ভয় বা ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন না, বরং গ্রহণ করেন আত্মশুদ্ধির উপায় হিসেবে। যেমন আগুনে পুড়ে সোনা বিশুদ্ধ হয়, তেমনি দুঃখের অনলে পুড়ে মানুষের আত্মা নির্মল হয়ে ওঠে এবং পরম সত্তার চরণে পৌঁছানোর যোগ্যতা অর্জন করে।  

    “দহনের শেষে বরষা আসিবে”—এই চিত্রকল্পে জীবনের এক চিরন্তন সত্য ফুটে উঠেছে। দুঃখের কঠিন সময়ের পরই আসে করুণা ও শান্তির বর্ষা। “এ-দিন রবে না, কুসুম ফুটিবে আবার শুষ্ক গাছে”—এই পংক্তিটি আশাবাদের এক অনন্য প্রকাশ, যা জানিয়ে দেয়—কষ্ট কখনো স্থায়ী নয়; জীবনের নির্জীব, শুষ্ক অবস্থাতেও আবার আনন্দ ও সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটবে।

    গানের শেষাংশে ভক্ত এক গভীর উপলব্ধির কথা ব্যক্ত করেন। তিনি অনুভব করেন— পরমসত্তার দেওয়া আঘাত আসলে বিচ্ছেদের জন্য নয়, বরং স্মরণের জন্য। “আঘাতের ছলে স্মরণ করায়ে দাও পলে পলে”—এই পংক্তিতে প্রকাশ পায় যে, দুঃখের মাধ্যমেই মানুষ অহংকার ভেঙে পরম প্রিয়ের দিকে ফিরে আসে। দুঃখই মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করায় এবং তাকে পরমসত্তার সান্নিধ্যের দিকে ধাবিত করে। 
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। 
  • রেকর্ড: [শ্রবণ নমুনা]    (শারমিন সাথী ইসলাম) {রেকর্ড সূত্র : বেঙ্গল ফাউন্ডেশন}
  • রাগ: মিশ্র ছায়ানট
  • তাল: একতাল
  • গ্রন্থ:
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৯১৭। পৃষ্ঠা: ৫৭৮]
    • নজরুল-স্বরলিপি, অষ্টম খণ্ড, ৫৩ সংখ্যক গান (হরফ প্রকাশনী, জুলাই ১৯৯৩)। পৃষ্ঠা: ১৪১-১৪৩। নজরুল-গীতি, অখণ্ড। ভক্তিগীতি, ১৪৬৬ সংখ্যক গান (হরফ প্রকাশনী, ২৩ জানুয়ারি ২০০৪)। পৃষ্ঠা: ৩৮৩।
    • স্বরলিপি: [নমুনা]
  • পর্যায়
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। সাধনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।