তুমি রহিমুর রহমান (tumi rahimur rahman)
তুমি রহিমুর রহমান আমি গুণাহগার বান্দা।
হাত ধ’রে মোর পথ দেখাও য়্যা আল্লাহ্ আমি আন্ধা॥
(মোর) সারা জীবন গেল কেটে
পাঁচ ভুতেরই বেগার খেটে,
(এখন) শেষের বেলা ঘুচাও আল্লা এই দুনিয়ার ধান্দা॥
(আল্লা) আমি তোমার বনের পাখি, কেন আমায় ধ’রে –
রাখ্লে মায়ার শিক্লি বেঁধে এই দেহ-পিঞ্জরে।
ব’লে এদের বাঁধা বুলি
আল্লা তোমায় গেছি ভুলি’,
(এবার) শিক্লি কেটে কাছে ডাকো শেষ কর এই কান্দা॥
- ভাবসন্ধান: পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে- অনুতপ্ত কবির আত্মসমর্পণ, অনুতাপ ও আল্লাহর প্রতি আকুল প্রার্থনা উপস্থাপিত হয়েছে এই গানে।
কবি নিজেকে এক গুনাহগার (পাপী) বান্দা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি স্বীকার করছেন যে, জীবনের পথে তিনি সঠিক দিশা হারিয়ে ফেলেছেন। তাই তিনি আল্লাহর কাছে মিনতি করছেন, যেন তিনি অন্ধের মতো পথভ্রষ্ট না হয়ে সঠিক পথে চলতে পারেন।
তিনি অনুতাপের সাথে স্বীকার করেছেন যে- তিনি সারাজীবন পার্থিব কামনা-বাসনা তথা ‘পাঁচ ভুতের’ (ইন্দ্রিয়ের) দাসত্ব করে কাটিয়েছেন। অর্থাৎ দুনিয়ার মোহ, লোভ, ভোগ-বিলাসের পেছনে ছুটতে ছুটতে বক্র পথে পরিচালিত হয়ে সত্যাশ্রয়ী ধর্মদর্শন ভুলে গেছেন। এখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন—এই দুনিয়াবি বন্ধন ও মোহ থেকে যেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
'বনের পাখি'র মতো তাঁর স্বাধীন থাকার কথা ছিল, কিন্তু 'মায়ার শিকল' দিয়ে বাঁধা এই দেহের খাঁচায় তিনি বন্দি হয়ে আছেন। তাই তিনি আল্লাহর কাছে অনুরোধ করছেন, যেন এই মায়ার শিকল কেটে তাকে নিজের কাছে ডেকে নেন এবং তার এই দীর্ঘ কান্না, দুঃখ ও অনুতাপের অবসান ঘটান।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। গানটি গীতি-শতদল সঙ্গীত সঙ্কলনের প্রথম সংস্করণ প্রেকাশিত হয়েছিল ১৩৪১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (এপ্রিল ১৯৩৪)। এই সময় এই সময় নজরুলের বয়স ৩৪ বৎসর ছিল ১১ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৪৮০। রাগ: পৃষ্ঠা: ৪৪৫]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম ধর্ম। হামদ। প্রার্থনা