তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম (tomar kalo rupe jak na dube shokol kalo momo)
তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম,
হে কৃষ্ণ প্রিয়তম!
নীল সাগর-জলে হারিয়ে যাওয়া নদীর জলের সম॥
কৃষ্ণ নয়ন-তারায় যেমন আলোকিত হেরি ভুবন,
তেমনি কালো রূপের জ্যোতি দেখাও নিরুপম॥
যাক মিশে আমার পাপ-গোধূলি তোমার নীলাকাশে,
মোর কামনা যাক ধুয়ে তোমার রূপের শ্রাবণ মাসে।
তোমায় আমায় মিলন থাকুক (যেমন) নীল সলিলে সুনীল শালুক
তুমি জড়িয়ে থাকো (গো) আমার হিয়ায় গানের সুরের সম॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি শ্যামসুন্দর কৃষ্ণ -প্রেমের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ, পাপমোচন এবং পরম সত্তার সঙ্গে চিরন্তন মিলনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। সমগ্র গানে কবির গভীর প্রেম, ভক্তি ও আত্মনিবেদনের ভাব উদ্ভাসিত হয়েছে।
যেমন নীল সাগরের জলে মিশে গিয়ে নদী তার স্বতন্ত্র সত্তা হারায়, তেমনি কবিও কৃষ্ণের গাঢ় কালো রূপে নিজের সমস্ত পাপ, দুঃখ ও অশুদ্ধতার কালিমা বিলীন করতে চান। এই বিলীনতার মধ্য দিয়েই তিনি আত্মশুদ্ধি ও পরিশুদ্ধতার পথ খুঁজে পান।
কৃষ্ণের নয়ন-তারায় যেমন সমগ্র বিশ্বলোক আলোকিত হয়ে ওঠে, তেমনি তাঁর কালো রূপের মধ্যেই কবি এক অনির্বচনীয় জ্যোতির প্রকাশ দেখতে পান। এখানে ‘কালো’ কোনো অন্ধকারের প্রতীক নয়; বরং এটি এক রহস্যময়, মোহনীয় ও চিরসুন্দর আলোর প্রতিরূপ।
গানের পরবর্তী অংশে কবি তাঁর জীবনের ‘পাপ-গোধূলি’—অর্থাৎ জীবনের সায়াহ্নে সঞ্চিত সকল পাপ ও মলিনতাকে কৃষ্ণের নীল আকাশে বিলীন করতে চান। তাঁর সকল কামনা-বাসনা যেন কৃষ্ণরূপী শ্রাবণধারায় ধুয়ে নির্মল হয়ে যায়—এই তাঁর আন্তরিক প্রার্থনা। শেষাংশে কবি তাঁর ও কৃষ্ণের মিলনকে তুলনা করেছেন নীল জলে ফুটে থাকা সুনীল শালুকের সঙ্গে, যা জলের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। আবার যেমন গানের বাণী ও সুর একত্রে মিশে মধুর ঐক্য সৃষ্টি করে, তেমনি কবিও চান কৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর মিলন হোক এক চিরন্তন, গভীর প্রেমময় যুগলবন্ধনে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৩) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৫৩৩]
- রেকর্ড: এইচএমভি। অক্টোবর ১৯৩৬ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৩)। এন ৯৭৮৮। যূথিকা রায় [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, ঊনত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। শ্রাবণ ১৪১৩/আগষ্ট ২০০৬] ১৫ সংখ্যক গান। যূথিকা রায়-এর রেকর্ডে গাওয়া গান অনুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- সুরকার: কমল দাশগুপ্ত
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম, বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। প্রার্থনা
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: পা