তোমার নাম নিয়ে খোদা (tomar naam niye khoda)

তোমার নাম নিয়ে খোদা আমি যে কাজ করি।
আমার তা’তে নাই লাজ ভয় মরি কিম্বা তরি॥
আমার ভালো মন্দ তুমি খোদা জানো,
(তাই) দুখের শমন দিয়ে এমন বুকের কাছে টানো, (খোদা)
(আমি) দুঃখ দেখে তোমার থেকে না যেন যাই সরি’॥
সুক-দুঃখ যশ নিন্দা মান ও অপমান
আমার ব’লে নইতো কিছু সবই তোমার দান,
(যত) বাইরে আঘাত আসে তত তোমায় যেন ধরি॥
(এই) ফেরেববাজীর দুনিয়া ভরা কেবল মায়া ফাঁকি
(তাই) তোমার নামের বাতি জ্বেলে বুকের কাছে রাখি,
ঐ নামের আঁচে আমি যেন মোমের মত ঝরি।
খোদা তোমার প্রেমে গ’লে যেন মোমের মত ঝরি॥

  • ভাবসন্ধান: আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস, দুঃখের মধ্যেও কবি তাঁর সান্নিধ্য লাভ এবং পার্থিব সকল মায়া ত্যাগ করে আল্লাহের কাছে আত্মসমপর্ণের প্রত্যাশা প্রার্থনারূপে এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে।

    তিনি মনে করেন, আল্লাহর নামকে আশ্রয় করেই তাঁর জীবনের সকল কর্ম সম্পন্ন হয়। তাই তিনি কোনো লজ্জা, ভয় বা পার্থিব পরিণতির চিন্তা করেন না—জীবনে সফল হোন বা ব্যর্থ, বাঁচুন বা মৃত্যুর সম্মুখীন হন, সব অবস্থাতেই তিনি আল্লাহর উপর নির্ভরশীল

    কবি বিশ্বাস করেন, তাঁর ভালো-মন্দ, দুঃখ-বেদনা—সবকিছুই আল্লাহ ভালোভাবে জানেন। তাই আল্লাহ তাঁকে দুঃখের মধ্য দিয়েই নিজের সান্নিধ্যে টেনে নেন। কবির প্রার্থনা—দুঃখ ও কষ্ট দেখে যেন তিনি কখনো আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত না হন। এখানে দুঃখকে তিনি শাস্তি নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম হিসেবে উপলব্ধি করেছেন।

    কবির উপলব্ধি- সুখ-দুঃখ, যশ-নিন্দা, মান-অপমান—এসব কিছুই মানুষের নিজস্ব নয়; সবই আল্লাহর দান। তাই বাহ্যিক আঘাত বা জীবনের প্রতিকূলতা যতই আসুক, তিনি ততই আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে চান। অর্থাৎ বিপদই তাঁর ঈমান ও বিশ্বাসকে আরও গভীর করে তোলে।

    কবি এই পৃথিবীকে প্রতারণা, মায়া ও ভণ্ডামিতে পরিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাই তিনি আল্লাহর নামকে প্রদীপের মতো হৃদয়ের কাছে জ্বালিয়ে রাখতে চান, যাতে সেই আলো তাঁকে সত্যের পথে পরিচালিত করে। শেষাংশে তিনি কামনা করেন, আল্লাহর প্রেমে তাঁর হৃদয় যেন মোমের মতো গলে যায়। অর্থাৎ তাঁর অহংকার, কঠোরতা ও পার্থিব আসক্তি বিলীন হয়ে গিয়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর প্রেমে আত্মনিবেদিত হয়ে উঠতে চান।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৭) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি এই গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১৪৮১। পৃষ্ঠা ৪৪৫]
  • রেকর্ড: টুইন [জুলাই ১৯৪০ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৭)। এফটি ১৩৩৬৫। শিল্পী: মাস্টার মোহন (হরিহর শুক্লা)। সুর: কাশেম মল্লিক]

     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
  • সুরকার: কাশেম মল্লিক
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্ম সঙ্গীত। ইসলামি গান। হামদ। ভরসা
    • সুরাঙ্গ: গজলাঙ্গ
    • তাল: কাহারবা
    • গ্রহস্বর:

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।