তোমার নামের বরমালা দাও গলে (tomar naamer bormala dao gole)

তোমার নামের বরমালা দাও গলে
তোমার রাহের কর মোরে রাহী॥
ফরজ ওয়াজেব আমি জানি না হে স্বামী
তোমার নামে মশগুল দিবাযামী
চাহি না শাফাৎ বেহেশ্‌ত দৌলত
হে প্রভু শুধু তোমারে চাহি॥
পতঙ্গ যেমন ধায় প্রদীপ পানে
তোমার জ্যোতি মোরে তেমনি টানে
তোমার বিরহে নিশিদিন কাঁদি
পরানে আমার শান্তি যে নাহি॥
আমারে রাখ তব প্রেমে ছেয়ে
বিশ্ব ভুলি যেন তোমারে পেয়ে,
নদী যেমন যায় সাগরে ধেয়ে
তেমনি ছুটি যেন তব নাম গাহি॥

  • ভাবসন্ধান: সুফি ভাবধারার আত্মনিবেদিত ভক্তের আল্লাহর প্রতি গভীর প্রেম, ভক্তিতে তাঁকে গভীরভাবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর কাছে একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণের আকুল প্রত্যাশা উপস্থাপিত হয়েছে এই গানে।

    এই ভক্ত পার্থিব সুখ, স্বর্গের লোভ কিংবা ধর্মীয় আচার-বিধির গৌরবকে বড় করে দেখেন না। তাঁর একমাত্র কামনা হলো প্রভুর প্রেম ও সান্নিধ্য লাভ। তিনি বলেন, তিনি ফরজ-ওয়াজেবের জটিল নিয়ম জানেন না, কিন্তু দিনরাত প্রভুর নামেই নিমগ্ন থাকেন। তাঁর কাছে সত্যিকারের মুক্তি হলো ঈশ্বরপ্রেমে আত্মহারা হয়ে থাকা।

    পতঙ্গ যেমন প্রদীপের আলোর দিকে অদম্য টানে ছুটে যায়, তেমনি ভক্তও ঈশ্বরের জ্যোতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাঁর কাছে আত্মসমপর্ণ করেন। আবার নদী যেমন অমোঘ বিধিতে সাগরের দিকে ধাবিত হয়, তেমনি তাঁর মনও প্রভুর নামের দিকে ছুটে চলতে চায়। এই উপমাগুলোর মধ্য দিয়ে কবি ভক্তের আত্মিক আকর্ষণ এবং পরমসত্তার সঙ্গে মিলনের আকাঙ্ক্ষাকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    প্রভুর বিরহে ভক্তের হৃদয় সর্বদা ব্যথিত। দিনরাত তাঁর চোখে অশ্রু ঝরে, কারণ প্রভুকে ছাড়া তাঁর মনে কোনো শান্তি নেই। তাই তিনি প্রার্থনা- প্রভু যেন তাঁকে নিজের প্রেমে আচ্ছন্ন করে রাখেন, যাতে তিনি জগতের সব মোহ ভুলে কেবল তাঁরই প্রেমে ডুবে থাকতে পারেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম থেকে নজরুল পুরোপুরি নির্বাক ও স্থবির হয়ে গিয়েছিলেন
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৩০৪৬ গান। পৃষ্ঠা: ৯৩৩।
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ। ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। সুফিবাদ। হামদ।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।