তোমার মদন মোহন রূপেরই দোষ (tomar modn mohon ruperi dosh)

তোমার মদন মোহন রূপেরই দোষ সুন্দর শ্যাম চাঁদ
মুনির যদি মন টলে নাথ তাদের নয় সে অপরাধ॥
তোমার রূপমাধুরী দেখি যত
রূপের তৃষ্ণা বাড়ে তত
হায় দু’দিনের জীবন দিয়ে সাধলো বিধি বাদ
কোটি জনম ও রূপ দেখে মিটবে না সে সাধ॥
হে অপরূপ চির মধুর
কি দোষ দেব কুলবধুর
যে দেখেছে ভুবন-মোহন তোমার রূপের ফাঁদ
সাধ করে সে ভুলেছে নাথ কুল মানের বাঁধ॥

  • ভাবসন্ধান: এটি কাজি নজরুল ইসালমের রচিত রূপানুরাগ পালা-কীর্তনের গান। এই গানে ভক্তের দৃষ্টিতে পরমসুন্দর শ্যাম বা পরমসত্তার অপরূপ রূপ-মাধুর্যের প্রতি গভীর মুগ্ধতা, আকর্ষণ এবং আত্মসমর্পণের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি শ্রীকৃষ্ণের রূপকে কেন্দ্র করে এমন এক আধ্যাত্মিক প্রেমের কথা বলেছেন, যা মানুষের সকল সামাজিক বন্ধন, অহংকার ও আত্মসংযমকে অতিক্রম করে যায়। ভক্তের মতে, শ্যামের অনন্ত সৌন্দর্যের আকর্ষণে হৃদয় যদি বিচলিত হয়ে পড়ে, তবে তার জন্য ভক্তকে দোষারোপ করা চলে না; বরং সেই আকর্ষণের উৎসই হলো পরমসত্তার অতুলনীয় রূপ-মাধুর্য।

    কবি উপলব্ধি করেন যে, শ্যামের রূপমাধুরী যতই দেখা , ততই সে রু্র দেখার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। তাই কবির আক্ষেপ- মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন এত অল্প যে, এই সীমিত আয়ুতে সেই অনন্ত সৌন্দর্যের পূর্ণ আস্বাদন সম্ভব নয়। কোটি কোটি জন্ম পেলেও সেই সাধ সম্পূর্ণ তৃপ্ত হবে না।

    গানের শেষাংশে কবি বৃন্দাবনের গোপীদের প্রসঙ্গকে আধ্যাত্মিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, যে একবার ভুবনমোহন শ্যামের রূপের ফাঁদে ধরা পড়েছে, তার পক্ষে কুল, মান, লজ্জা বা সামাজিক মর্যাদার বাঁধন আঁকড়ে থাকা সম্ভব নয়। এখানে ‘কুলবধূ’ কেবল ব্রজবধূ নয়, বরং সেই সকল ভক্ত-আত্মার প্রতীক, যারা ঈশ্বরপ্রেমে আত্মহারা হয়ে জাগতিক পরিচয় ও অহংকার বিসর্জন দিয়েছে। পরমসত্তার প্রেম ও সৌন্দর্যের আকর্ষণ এতই গভীর যে, তার কাছে পার্থিব মান-অভিমান, সামাজিক নিয়ম কিংবা ব্যক্তিগত গৌরব সবই তুচ্ছ হয়ে যায়।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার, ৩১ আষাঢ় ১৩৪৪) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানির সাথে নজরুলের চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিপত্রে এই গানটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান সংখ্যা ১০২৮]
     
  • বেতার:  
    • একক অনুষ্ঠান। ঢাকা কেন্দ্র। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জুন (২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭)। শিল্পী: শ্রীমতি রাধারাণী
    • রূপানুরাগ। পালা-কীর্তন। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি (১০ ফাল্গুন ১৩৪৭), কলকাতা-ক এর তৃতীয় অধিবেশনে রাত ৮ টা থেকে ৮.৩৯ পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছিল।
      • সূত্র: বেতার জগৎ। ১২শ বর্ষ ৪র্থ সংখ্যার [পৃষ্ঠা ১৭২, ২১০]
         
  • রেকর্ড: ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার, ৩১ আষাঢ় ১৩৪৪) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানির সাথে নজরুলের চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিপত্রে এই গানটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত, সনাতন হিন্দু ধর্ম, বৈষ্ণব। কৃষ্ণ বন্দনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।