তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো কভু (tomar mahabishwe kichhu haray na to kovu)
তোমার মহাবিশ্বে কিছু হারায় না তো কভু।
আমরা অবোধ, অন্ধ মায়ায় তাই তো কাঁদি প্রভু॥
তোমার মতই তোমার ভুবন
চির পূর্ণ, হে নারায়ণ!
দেখতে না পায় অন্ধ নয়ন তাই এ দুঃখ প্রভু॥
ঝরে যে ফল ধূলায় জানি, হয় না তাহা (কভু) হারা,
ঐ ঝরা ফলে নেয় যে জনম তরূণ তরুর চারা —
তারা হয় না কভু হারা।
হারালো (ও) মোর প্রিয় যারা,
তোমার কাছে আছে তারা;
আমার কাছে নাই তাহারা — হারায়নিক' তবু॥
- ভাবার্থ: সনাতন হিন্দু ধর্মের বিশ্বের প্রতিপালক দেবতা হিসেবে নারায়ণ (বিষ্ণু) অসীম রূপের বন্দনা এই গানে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কবি তাঁর জীবন-দর্শনের মধ্য দিয়ে অনুভব করেছেন- মহান বিষ্ণুর কল্যাণে এই মহাবিশ্বে যা কিছুর উদ্ভব হয়, তার কোনো কিছুই হারিয়ে যায় না। অবোধ মানুষ, তা বুঝতে না পেরে- পার্থিব মায়াময় প্রপঞ্চে হারিয়ে যাওয়া- বেদনার অন্ধ আবেগে বিলাপ করে। নারায়ণের (বিষ্ণু) মতই তাঁর ভুবন অসীম এবং চিরন্তন। তিনি সম্পূর্ণ বলেই জগৎ চির পূর্ণ হয়ে বিরাজ করে। সে পূর্ণ ভুবনে কিছু হারায় না বরং সবই তাঁর অসীম ভুবনের অংশ হয়ে রয়ে যায়।
কবি মনে করেন যা হারিয়ে যায়, তা নবতর রূপে ফিরে আসে। মায়াময় পৃথিবীতে যে ফল ধূলায় পড়ে বিনষ্ট হয়, সেই ফল থেকেই জন্ম নেয় তরুণ তরু। সত্তার এই রূপান্তরের মধ্য দিয়েই হারিয়ে যাওয়া সব কিছই নব নব রূপে ফিরে আসে। সামগ্রিক অর্থে কবির ভাবনা- যা আমাদের দৃষ্টিতে হারিয়ে যায়, তা প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের বৃহত্তর অস্তিত্বধারার মধ্যেই থেকে যায়। প্রিয়জনের হারানোর বেদনায় অবোধ মানুষ বিলাপ করেন। মূলত পার্থব জগৎ থেকে তাঁরা হারিয়ে যান বটে, কিন্তু তাঁরা মৃত্যুর সীমানা পেরিয়ে নারায়ণের কাছে আশ্রয় নেন। কবি তাঁর জীবনর সার্বিক দর্শনের মধ্য দিয়ে যে উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছেন, তাঁরই প্রতিফলন ঘটেছে এই গানে। তাই এই গানটি হয়ে উঠেছে বৈষ্ণবধারায় পরিপুষ্ট মরমী গান।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটি প্রথম রেকর্ড করে। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ২ মাস।
- রেকর্ড: এইচএমভি [আগষ্ট ১৯৩৫ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪২)। নম্বর ৭৩৯৩ শিল্পী: মৃণালকান্তি ঘোষ] [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: আহসান মুর্শেদ [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, সাতাশ খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। কার্তিক, ১৪১২/অক্টোবর ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ] ১৮ সংখ্যক গান [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত, সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: ভজন
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: সা