তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম (touhideri murshid amar mohammader naam)

তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম।
ঐ নাম জপলেই বুঝতে পারি খোদায়ী কালাম 

                        মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম॥
ঐ নামেরি রশি ধ'রে যাই আল্লার পথে,
ঐ নামেরি ভেলা ধ'রে ভাসি নূরের স্রোতে,
ঐ নামেরি বাতি জ্বেলে দেখি আরশের মোকাম।
                        মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম॥
ঐ নামের দামন ধ'রে আছি আমার কিসের ভয়,
ঐ নামের গুণে পাব (আমি) খোদার পরিচয়,
তাঁর কদম মোবারক যে আমার বেহেশতী তাঞ্জাম।
                        মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে কবি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মহানবী (সা.) কেবল ইসলামের প্রচারকই নন, বরং তৌহিদের প্রকৃত পথপ্রদর্শক বা মুর্শিদ, যাঁর অনুসরণে মানুষ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে।

    গানের শুরুতেই কবি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর মুর্শিদ হলেন মুহাম্মদ (সা.)। তাঁকে বলা হয়েছে ‘তৌহিদের মুর্শিদ’। উল্লেখ্য, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় এবং তাঁর কোনো শরিক, অংশীদার বা সমকক্ষ নেই—এই বিশ্বাস ও স্বীকৃতিই তৌহিদ। তাই কবির বিশ্বাস, মহানবীর পবিত্র নাম জপ করলেই তিনি আল্লাহর বাণী ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। অর্থাৎ মহানবীর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষার মধ্য দিয়েই তিনি আল্লাহর নির্দেশনা ও সত্যের সন্ধান পান।

    পরবর্তী পঙ্ক্তিগুলোতে কবি বিভিন্ন রূপকের মাধ্যমে মহানবীর প্রতি তাঁর নির্ভরতা ও আস্থার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম যেন একটি রশি, যা ধরে তিনি আল্লাহর পথে অগ্রসর হন। সেই নামই আবার তাঁর জন্য একটি ভেলা, যার সাহায্যে তিনি নূর বা ঐশী জ্ঞানের স্রোতে ভেসে চলেন। একইভাবে সেই নামের আলো তাঁর অন্তরকে আলোকিত করে এবং তাঁকে আল্লাহর আরশ বা মহান সান্নিধ্যের পথ দেখায়।

     

    কবির মতে, মহানবীর নামের আশ্রয়ে থাকলে তাঁর কোনো ভয় নেই। কারণ এই নামের বরকত ও শিক্ষার মাধ্যমে তিনি আল্লাহকে জানার ও চেনার সুযোগ পাবেন। মহানবীর অনুসৃত পথই তাঁকে আত্মিক মুক্তি ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবে। গানের শেষাংশে কবি ঘোষণা করেন যে, মহানবীর পবিত্র পদচিহ্ন অনুসরণ করাই তাঁর জন্য বেহেশতের সম্বল। অর্থাৎ নবীর আদর্শ, চরিত্র ও জীবনবিধান অনুসরণ করলেই তিনি পরকালীন মুক্তি ও সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

    মূলত, এই গানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভক্তি, তাঁর মাধ্যমে আল্লাহপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ইসলামের তৌহিদি আদর্শের প্রতি কবির অগাধ আস্থা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
     

  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।  ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর  (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৫) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ৬ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • জুলফিকার
      • দ্বিতীয় সংস্করণ [ডিসেম্বর, ১৯৫২ (পৌষ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)]
      • নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২। জুলফিকার দ্বিতীয় খণ্ড। ১৫। পৃষ্ঠা ৯৮]
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ৫৫১ সংখ্যক গান। তাল:কাহার্‌বা। পৃষ্ঠা: ১৬৮।
       
  • পত্রিকা: মোহাম্মদী [আশ্বিন ১৩৪৬ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৯)]
     
  • রেকর্ড: টুইন [ডিসেম্বর ১৯৩৮ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৫)]। এফটি ১২৬৩৩। শিল্পী: আব্বাসউদ্দিন  [শ্রবণ নমুনা]
     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: সুধীন দাশ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, চৌত্রিশতম খণ্ড, (একুশে বই মেলা। ফাল্গুন ১৪১৮/ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১৭তম  সংখ্যক গান  [নমুনা]
     
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামী গান। নাত-এ-রসুল
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।