ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায় (trivuboner priyo mohammad elo re duniyay)

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়।
আয় রে সাগর আকাশ বাতাস দেখ্‌বি যদি আয়॥
ধূলির ধরা বেহেশ্‌তে আজ, জয় করিল দিল রে লাজ।
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়॥
দেখ্ আমিনা মায়ের কোলে, দোলে শিশু ইসলাম দোলে।
কচি মুখে শাহাদাতের বাণী সে শোনায়॥
আজকে যত পাপী ও তাপী, সব গুনাহের পেল মাফী।
দুনিয়া হতে বে-ইনসাফী জুলুম নিল বিদায়॥
নিখিল দরুদ পড়ে লয়ে নাম, সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম।
জীন পরী ফেরেশ্‌তা সালাম জানায় নবীর পায়॥

  • ভাবসন্ধান: গানটিতে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মকে মানবজাতির মুক্তি, ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের এক মহাসূচনা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। তাঁর আবির্ভাবে সমগ্র বিশ্বজগৎ আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছে এবং মানবসমাজ নতুন আশার আলো লাভ করেছে।

    বি বলেন, ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদের আগমনে সমগ্র পৃথিবী আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে। তাঁর জন্মের এই মহাসংবাদ প্রত্যক্ষ করার জন্য সাগর, আকাশ ও বাতাসকেও যেন আহ্বান জানানো হচ্ছে। মহানবীর জন্মের ফলে ধূলিময় পৃথিবী যেন বেহেশতের রূপ ধারণ করেছে এবং মরুপ্রধান সাহারা অঞ্চলেও আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে।

    কবি অপার মমতায় বর্ণনা করেছেন যে, জননী আমিনা বিনতে ওহাব-এর কোলে শিশু মুহাম্মদ দোল খাচ্ছেন। তাঁর জন্মের মধ্য দিয়েই ইসলামের আদর্শ ও সত্যের বীজ রোপিত হয়েছে। কবির কল্পনায় সেই নিষ্পাপ শিশুর মুখ থেকেই যেন ঈমান ও তাওহিদের বাণী উচ্চারিত হচ্ছে।

    মহানবীর আবির্ভাবের ফলে পাপী ও দুঃখক্লিষ্ট মানুষের জন্য ক্ষমা, মুক্তি ও কল্যাণের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ পৃথিবী থেকে অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও বৈষম্য দূর করার পথ দেখিয়েছে। তাই তাঁর জন্ম মানবসমাজে ন্যায়, সাম্য, মানবতা ও শান্তির এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক।

    গানের শেষাংশে কবি দেখিয়েছেন যে, মহানবীর আগমনে সমগ্র সৃষ্টি আনন্দে মেতে উঠেছে। মানুষ, জিন, পরী ও ফেরেশতারা তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদন করছে। এর মাধ্যমে কবি মহানবীর সর্বজনীন মর্যাদা, মহিমা এবং বিশ্বজগতের জন্য তাঁর রহমতস্বরূপ আবির্ভাবের ভাবকে গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রকাশ করেছেন।
     

  • রচনাকাল ও স্থান:গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের জুন (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪২) মাসে,  টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটি প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর ৫৭০ সংখ্যক গান
  • রেকর্ড: টুইন [জুন ১৯৩৫ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪২)। এফটি ৩৯৮০। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ[শ্রবণ নমুনা]
     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলামি গান। নাত-এ-রসুল
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।