দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ তাহে দুঃখ নাই (dukkho ovab shok diyechho he nath tahe dukkho nai)

দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ তাহে দুঃখ নাই
তুমি যেন অন্তরে মোর বিরাজ করো সর্বদাই॥
            রোগের মাঝে অশান্তিতে
            তুমি থেকো আমার চিতে
তোমার নামের ভজন গীতে প্রাণে যেন শান্তি পাই॥
দুর্দিনেরি বিপদ এলে তোমায় যেন না ভুলি
তোমার ধ্যানে পর্বত প্রায় অটল থাকি, না দুলি।
            সুখের দিনে বিলাস ঘোরে
            ভুলতে নাহি দিও মোরে
আপনি ডেকে নিও কোলে দূরে যদি সরে যাই॥

  • ভাবসন্ধান: ভাবসন্ধান: এই গানে একজন ভক্তের পরমসত্তার প্রতি গভীর আত্মসমর্পণ, অটল বিশ্বাস ও ভক্তিভাব প্রকাশিত হয়েছে। কবি পরম করুণাময় প্রভুর কাছে নিবেদন করেছেন যে, জীবনে দুঃখ, অভাব, শোক, রোগ কিংবা নানা অশান্তি এলেও তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, পার্থিব সুখ-দুঃখ ক্ষণস্থায়ী; জীবনের প্রকৃত আশ্রয় ও শান্তি নিহিত রয়েছে পরমসত্তার সান্নিধ্যে।

    কবি প্রার্থনা করেছেন, জীবনের সকল প্রতিকূল অবস্থায় যেন প্রভু তাঁর হৃদয়ে বিরাজ করেন। রোগ, কষ্ট ও অশান্তির সময়েও যেন তাঁর মন পরমসত্তার স্মরণে নিবিষ্ট থাকে এবং তাঁর নাম-সংকীর্তন ও ভজনগীতির মাধ্যমে যেন তিনি মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। 

    তিনি আরও কামনা করেছেন, দুর্দিন ও বিপদের সময় যেন তিনি কখনো প্রভুকে ভুলে না যান। বরং প্রভুর ধ্যান ও বিশ্বাসে তিনি যেন পর্বতের ন্যায় অটল থাকতে পারেন এবং কোনো প্রতিকূলতা তাঁর মনোবলকে বিচলিত করতে না পারে। তাঁর বিশ্বাস, প্রভুর স্মরণই সকল বিপদ-আপদ মোকাবিলার প্রধান শক্তি।

    কবি উপলব্ধি করেছেন যে, মানুষ শুধু দুঃখে নয়, সুখ ও বিলাসের মধ্যেও প্রভুকে ভুলে যেতে পারে। তাই তিনি প্রার্থনা করেছেন, সুখের সময়েও যেন প্রভুর স্মরণ থেকে বিচ্যুত না হন। যদি কখনো মোহ, ভোগ-বিলাস বা সংসারের আকর্ষণে প্রভুর সান্নিধ্য থেকে দূরে সরে যান, তবে প্রভু যেন করুণাবশত তাঁকে আবার স্নেহভরে কোলে টেনে নেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৫) মাসএ টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে এই গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৯ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ৭৯৪ সংখ্যক গান]
  • রেকর্ড: টুইন [জুলাই ১৯৩৮ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৫)। এফটি ১২৪৫১।  শিল্পী: আব্দুল লতিফ। সুরকার: নজরুল ইসলাম][শ্রবণ নমুনা]
     
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: নিখিলরঞ্জন নাথ [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, তেইশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। কার্তিক ১৪০৯ নভেম্বর ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ] ১২ সংখ্যক গান [নমুনা]
     
  • সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। আত্মনিবেদন
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয়
    • তাল: দাদরা
    • গ্রহস্বর: রা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।