দুখের সাহারা পার হয়ে আমি চলেছি কাবার পানে (dukher shahara par hoye ami cholechhi kabar pane)
দুখের সাহারা পার হয়ে আমি চলেছি কাবার পানে।
পড়িব নামাজ মা'রফাতের আরফাত ময়দানে॥
খোদার ঘরের দিদার পাইব, হজের পথের জ্বালা জুড়াইব,
(মোর) মুর্শিদ হয়ে হজরত পথ দেখান সুদূর পানে॥
রোজা রাখা মোর সফল হইবে, পাব পিয়াসার পানি;
আবে জম্জম্ তৌহিদ পিয়ে ঘুচাব পথের গ্লানি।
আল্লার ঘর তওয়াফ করিয়া কাঁদিব সেথায় পরান ভরিয়া,
ফিরিব না আর, কোরবানি দেব এই জান সেইখানে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে একজন আধ্যাত্মিক পথযাত্রীর অন্তরের গভীর ঈমান, ত্যাগ ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষা উপস্থাপিত হয়েছে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য দুঃখ-কষ্ট ও পার্থিব মোহ ত্যাগ করে আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও পূর্ণ আত্মসমর্পণের মাধ্যমে হজের পবিত্র লক্ষ্য অর্জনই ভক্তের জীবনের চূড়ান্ত সাধনা।
তিনি নিজের জীবনপথকে দুঃখ-কষ্টে ভরা মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করে সেই সব কষ্ট অতিক্রম করে পবিত্র কাবার দিকে যাত্রার কথা বলেছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই আধ্যাত্মিক সফরের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর ঘরের দীদার লাভ (সাক্ষাৎ লাভ করা) করা এবং সত্যিকারের নৈকট্য অর্জন করা।
তিনি মনে করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) -এর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই তিনি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। তাই তিনি মুর্শিদের দিকনির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়ে আধ্যাত্মিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হচ্ছেন। আরাফাত ময়দানে নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি হজের পূর্ণতা ও আত্মিক পরিশুদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কবি বিশ্বাস করেন, রোজা পালন ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর জীবনের সব পাপ ও ক্লেশ মোচন হবে এবং আবে জমজমের তৌহিদ-সুধা পান করে তিনি আত্মার পরিশুদ্ধি লাভ করবেন। এতে তাঁর অন্তরের তৃষ্ণা নিবারণ হবে এবং জীবনের সকল গ্লানি দূর হবে।
গানের শেষে তিনি আবেগভরে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করার সময় কাঁদার কথা বলেছেন, যা তাঁর গভীর ভক্তি ও অনুশোচনার প্রকাশ। তিনি চান, সেই পবিত্র স্থানে পৌঁছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, আর ফিরে না এসে নিজের জীবনকেই আল্লাহর পথে কোরবানি করবেন, অর্থাৎ সম্পূর্ণ আত্মত্যাগ ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চিরতরে তাঁর সান্নিধ্যে নিবেদিত থাকবেন।
- ৱরচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৭) মাসে, টুইন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ৫৭৪ সংখ্যক গান]
- রেকর্ড: টুইন [ডিসেম্বর ১৯৪০ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৭)। এফটি ১৩৪৯৬। আব্বাসউদ্দীন আহমদ।[শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, একত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ/ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ] ১১ সংখ্যক গান। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, একত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ফাল্গুন, ১৩৯৭ বঙ্গাব্দ/ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ] ১১ সংখ্যক গান। শিল্পী: আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। আত্মশুদ্ধি
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর: মা