দোলে ঝুলন দোলায় দোলে নওল কিশোর গিরিধারী হরষে॥ (dole jhulon dolay dole)

দোলে ঝুলন দোলায় দোলে নওল কিশোর গিরিধারী হরষে॥
মৃদঙ্গ বাজে নভোচারী মেঘে বারিধারা রুমু ঝুমু বরষে॥
                নাচে ময়ূর নাচে কুরঙ্গ
                কাজরি গাহে বন বিহঙ্গ
যমুনা-জলে বাজে জলতরঙ্গ শ্যামসুন্দর-রূপ দরশে॥

  • ভাবসন্ধান: বৃন্দাবনের এসেছে ঝুলন-উৎসব। এই উৎসবে বৃন্দাবনের জনপদবাসীর সাথে সমগ্র প্রকৃতি যেন মেতে উঠেছে ঝুলন-উৎসবের আনন্দলীলায়। এই গানে ঝুলন-উৎসবের সামগ্রিক রূপকেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ঝুলন উৎসবের দোলনায় নবীন কিশোর গিরিধারী কৃষ্ণ আনন্দভরে দুলছেন। চারদিকে বর্ষার আকাশে মেঘ যেন মৃদঙ্গের মতো গম্ভীর ধ্বনি তুলছে, আর তার সঙ্গে ঝরে পড়ছে রুমুঝুমু বৃষ্টিধারার সঙ্গীতময় ধ্বনি। কৃষ্ণের এই আনন্দময় লীলার উল্লাসে নাচছে ময়ূর, উলম্ফিত নৃত্যানন্দে বন্য-হরিণেরা সচঞ্চল, আর কাজরির সুরে গান গাইছে বনের পাখিরা। যমুনার জলে তরঙ্গের মৃদু শব্দ যেন জলতরঙ্গের মতো সুর তুলছে। এই সমস্ত সুর, নৃত্য ও প্রকৃতির আনন্দের মধ্যে শ্যামসুন্দর কৃষ্ণের মনোমুগ্ধকর রূপ দর্শন করে সকলেই পরম আনন্দে বিভোর হয়ে উঠছে।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।  ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৪) মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ২ মাস।
     
  • রেকর্ড: এইচএমভি। আগষ্ট ১৯৩৭ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৪)। এন ৯৯৩০। বীণাপাণি দেবী। সুর: হিমাংশু দত্ত  [নমুনা]
  • [মাসুদা আনাম (শ্রবণ নমুনা)]
     
  • স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: সুধীন দাশ নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি চতুর্দশ খণ্ড (নজরুল ইন্সটিটিউট)। ১৫ সংখ্যক গান। রেকর্ডে বীণাপাণি দেবীর গাওয়া গানের সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
  • সুরকার: হিমাংশু দত্ত
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। ঝুলন-উৎসব
    • সুরাঙ্গ: ভজন

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।