ধারা জলের ঝালর ঢাকা শ্যাম চাঁদের মুখে (dhara joler jhalor dhaka shyam chander mukhe)
ধারা জলের ঝালর ঢাকা শ্যাম চাঁদের মুখে।
দোলার ছলে অমন করে পড়িস নে রাই ঝুঁকে॥
যে বনমালার ছোঁয়ার আশে,
দুলি মোরা আশে পাশে,
সেই বনমালা দু-হাত দিয়ে জড়াস নে লো বুকে॥
রাই নূপুর কেন থামায় লো তার পায়ে দিয়ে পা;
আঁচল দিয়ে ঝাঁপিস নে লো শ্যামের আদুল গা।
মোরা চোখে চোখে বাঁধব রাখি,
ঢাকিস্ নে ওর কাজল আঁখি,
আজ পরান পরান ভ’রে দেখব মোরা পরান বঁধুকে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমলীলা এবং বৃন্দাবনের সখীদের হৃদয়ের গভীর আনন্দ ও আকুলতা কাব্যময়ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি এখানে কৃষ্ণের অপরূপ সৌন্দর্য ও রাধার প্রেমময় লজ্জা-আবেগের এক মনোহর চিত্র এঁকেছেন
বৃষ্টিধারার জলের ঝালরে শ্যামসুন্দর কৃষ্ণের মুখমণ্ডল আড়াল হয়ে যাচ্ছে। সখীরা রাধাকে অনুরোধ করছে- হে রাই, দোল খেলার ছলে তুমি এমনভাবে ঝুঁকে পড়ো না, যাতে আমাদের প্রিয় শ্যামের মুখের সৌন্দর্য ঢাকা পড়ে যায়। কারণ কৃষ্ণের মুখের সেই অপরূপ মাধুর্য দর্শন করাই তাদের পরম আনন্দ।
যে বনমালার স্পর্শ পাওয়ার আশায় সখীরা চারদিকে আকুল হয়ে দুলছে, রাধাকে তারা সেই বনমালা নিজের হাতে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিতে নিষেধ করছে। কারণ সেই মালা যেন কৃষ্ণের প্রেম ও সান্নিধ্যের স্মারক, যা সকলের হৃদয়ে আকাঙ্ক্ষা জাগায়।
সখীরা রাধাকে আরও বলে- তোমার নূপুরের শব্দে শ্যামের পদযুগল থামিয়ে দিয়ো না, তোমার আঁচল দিয়ে তাঁর কোমল শরীর আড়াল করো না। আমরা শুধু চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে প্রেমের বন্ধন গড়ে তুলতে চাই। তাঁর কাজল-কালো নয়নের মাধুর্য আমাদের চোখ থেকে আড়াল করো না; আজ আমরা প্রাণভরে আমাদের প্রাণের প্রিয়তমকে দর্শন করতে চাই।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ আগষ্ট (মঙ্গলবার ২৮ শ্রাবণ ১৩৪৭), কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে নজরুলের রচিত গীতি-আলেখ্য 'হিন্দোলা' প্রচারিত হয়েছিল। এই গীতি-আলেখ্যের সাথে এই গানটি প্রচারিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১৯৫২ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৫৮৭।
- বেতার: হিন্দোলা গীতানুষ্ঠান। কলকাতা বেতার কেন্দ্র-ক। সান্ধ্য অনুষ্ঠান। [১৩ আগষ্ট ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ (মঙ্গলবার ২৮ শ্রাবণ ১৩৪৭)] সন্ধা: ৮.০০-৮.৩৯। শিল্পী: শৈল দেবী
- পর্যায়:
- বিষায়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। রাধাকৃষ্ণ লীলা। সখী সমাচার
সূত্র:
- বেতারজগৎ। ১১শ বর্ষ, ১৫শ সংখ্যা। পৃষ্ঠা: ৮৩৫
- নজরুল সঙ্গীত নির্দেশিকা। ব্রহ্মমোহন ঠাকুর। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। জুন ২০১৮
- The Indian-listener 1940, Vol V, No 15. page 1181