নব কিশলয় শ্যামা তনু ঢল ঢল অভিরাম (nobo kisholoy shyama tonu dholo dholo oviram)

নব কিশলয় শ্যামা তনু ঢল ঢল অভিরাম
অপরূপ রূপমাধুরী হেরিয়া মুরছিত কোটিকাম॥
গলে বনমালা শিরে শিখি পাখা
নীপধড়া কিশোর ত্রিভঙ্গ বাঁকা,
বাজায় মুরলী ‘রাধা রাধ’ বলি নওল কিশোর শ্যাম॥

  • ভাবসন্ধান: নজরুলের রচিত বিষ্ণুপ্রিয়া নামক একটি অসমাপ্ত নাটকে এই গানটি ব্যবহার করা হয়েছে।  এই গানে শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ রূপসৌন্দর্য, লাবণ্য ও মাধুর্যের এক মনোহর চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। কবি এখানে শ্যামসুন্দরের নবযৌবনময়, আকর্ষণীয় ও প্রেমময় রূপের বর্ণনা করেছেন।

    কৃষ্ণের দেহ নব কিশলয়ের মতো কোমল, স্নিগ্ধ ও শ্যামবর্ণের অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরা। তাঁর শরীরের প্রতিটি ভঙ্গিমায় এমন অপরূপ রূপমাধুর্য প্রকাশ পেয়েছে যে, সেই সৌন্দর্য দর্শন করে কোটি কোটি কামদেবও যেন মোহিত ও মুগ্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ কৃষ্ণের সৌন্দর্য জাগতিক সৌন্দর্যের ঊর্ধ্বে, এমনকি সৌন্দর্যের প্রতীক কামদেবও তাঁর কাছে পরাভূত।

    কৃষ্ণের গলায় শোভিত বনফুলের মালা, মাথার ময়ূরের পেখম সবই অপরূপ। তিনি নীপফুলের মতো কোমল সৌন্দর্যে সজ্জিত কিশোর রূপে, ত্রিভঙ্গ (মাথা, কোমর ও পায়ের বাঁকানো ভঙ্গি) দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর সেই বাঁকা ভঙ্গি তাঁর রূপের মাধুর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নবীন কিশোর কৃষ্ণ যখন মধুর সুরে বাঁশি বাজান এবং সেই বাঁশির ধ্বনিতে যেন ‘রাধা রাধা’ নাম উচ্চারিত হয়, তখন তাঁর প্রেমময় হৃদয় ও রাধার প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পায়। তাঁর বাঁশির সুর সমগ্র বৃন্দাবনকে প্রেমের আবেশে ভরিয়ে তোলে।
  • রচনাকাল ও স্থান: এই নাটকের রচনাকাল ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি।  আব্দুল কাদেরের সম্পাদিত নজরুল রচনাবলীর পঞ্চম খণ্ডের, দ্বিতীয়ার্থে (১৯৮৪), ' বিষ্ণুপ্রিয়া নামক একটি অসমাপ্ত নাটক অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। গানটি এই নাটকের অষ্টম দৃশ্যে ' নিমাই-এর গান' হিসেবে পাওয়া যায়।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংখ্যা ১৯৫৯।
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বন্দনা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।