নন্দ-দুলাল পিয়াল-তমাল বনচারী (nondo-dulal piyal-tomal bonochari)

নন্দ-দুলাল পিয়াল-তমাল বনচারী,
মম নয়ন-মন তব দরশন-ভিখারি।
এসো হে ঘনশ্যাম বরিষণে, নীলমণি
এসো ননী-চোর শিখি-পাখা-ধারী॥
এসো হেলে দুলে নূপুর পায়ে যমুনা-তরে।
এসো নয়ন-নীরে নিরজনে ঘন তিমিরে।
শ্যাম ব্রজরাজ মদন-মনোহারী গিরিধারী
এসো হরি ডাকে কাঁদি’ গোপনারী॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে বৈষ্ণব ভক্তিরসের মধ্য দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর প্রেম, আকুলতা এবং বিরহমিশ্রিত ভক্তিভাব প্রকাশিত হয়েছে। এখানে কৃষ্ণকে কেবল দেবতা হিসেবে নয়, বরং ব্রজভূমির প্রাণ, গোপীদের হৃদয়ের চিরন্তন প্রেমময় প্রিয়তম রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    গানের শুরুতেই নন্দের আদরের পুত্র, পিয়াল-তমাল বনচারী শ্রীকৃষ্ণকে গভীর আকুলতায় আহ্বান করা হয়েছে। তাঁর দর্শনের জন্য ভক্তের নয়ন ও মন যেন ভিখারির মতো ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণকে পাওয়া যায় নানা রূপের মাধুর্যময় কল্পচিত্রে।

    তাঁকে আবাহন করা হয়েছে নীলমণির মতো শ্যামবর্ণ ঘনশ্যাম রূপে, ননীচোর ও শিখিপাখাধারী রাখালবেশে, যমুনাতীরে নূপুরধ্বনি তুলে হেলে-দুলে চলা মাধুর্যময় রূপে এবং ভক্তের অশ্রুসিক্ত হৃদয়ের গভীর নির্জনতায় বিরাজমান পরম আশ্রয় হিসেবে।

    গানের শেষাংশে কৃষ্ণের ব্রজরাজ, মদনমোহন ও গিরিধারী রূপের মাহাত্ম্য প্রকাশ পেয়েছে। কৃষ্ণ গোপীদের কাছে কেবল প্রিয়জন নন; তিনি তাঁদের প্রেম, আশ্রয় ও পরম শান্তির একমাত্র অবলম্বন। তাই তাঁর বিরহে গোপীদের হৃদয় ব্যথিত, চোখ অশ্রুসিক্ত এবং কণ্ঠে ধ্বনিত হয় একান্ত আকুল আহ্বান—“এসো হে হরি”।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।  
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইন্সটিটিউট, মাঘ, ১৪১৭/ফেব্রুয়ারি, ২০১৪)। গান সংখ্য ১৯৫৮। পৃষ্ঠা: ৫৮৯।
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। আহ্বান

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।