নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) (nondolok hote) (anondolok hote)

নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) আমি এনেছি রে মহামায়ায়।
এনেছি মা মহামায়ায়।
বন্ধ যথায় বন্দী যত কংসরাজার অন্ধকারায়॥
বন্দী জাগো! ভাঙো আগল,
ফেল রে ছিঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়॥
আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম ‘নন্দালয়ে’
সেইখানে সে বংশী বাজায় বাজায় আনন্দ-গোপ-দুলাল হয়ে।
মা’র আদেশে বাজাবে সে
অভয় শঙ্খ দেশে দেশে,
(তোরা) নারায়ণী সেনা হবি, এবার নারায়ণীয় কৃপায়॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানে পৌরাণিক কাহিনির আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ঈশ্বরের আবির্ভাবের মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়েছে। এখানে ‘মহামায়া’ ও ‘গোপাল’-এর প্রতীকের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলো, বন্ধন থেকে মুক্তি এবং অধর্ম থেকে ধর্মের প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    গানের সূচনায় কবি মহামায়ার আগমনকে আনন্দলোক থেকে আগত এক ঐশ্বরিক শক্তিরূপে কল্পনা করেছেন। ‘নন্দলোক’ বা ‘আনন্দলোক’ থেকে মহামায়াকে আনার অর্থ হলো—দুঃখ, অন্ধকার ও অত্যাচারে নিমজ্জিত পৃথিবীতে ঐশ্বরিক আনন্দ ও কল্যাণের আবির্ভাব। কংসের অন্ধকার কারাগারে বন্দী মানুষের মুক্তির জন্য এই মহাশক্তির আগমন ঘটেছে।

    পরবর্তী অংশে কবি বন্দীদের জাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। কংসের কারাগার এখানে শুধু একটি স্থান নয়; এটি অন্যায়, ভয়, অজ্ঞতা ও দাসত্বের প্রতীক। তাই কবি আহ্বান করেছেন—বন্ধন ছিন্ন করে মুক্তির আলোকে বেরিয়ে আসতে। এই মুক্তি বাহ্যিক নয়, বরং আত্মিক মুক্তির প্রতীক।

    গানের পরবর্তী অংশে কৃষ্ণজন্মের কাহিনির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কবি বলেছেন, তিনি তাঁর হৃদয়ের গোপালকে নন্দালয়ে রেখে এসেছেন। সেখানে কৃষ্ণ বংশীর সুরে আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং গোপদের প্রিয় দুলাল হয়ে উঠেছেন। এখানে গোপাল কৃষ্ণ আনন্দ, প্রেম ও কল্যাণের প্রতীক।

    শেষাংশে কৃষ্ণের ভবিষ্যৎ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। মায়ের আদেশে তিনি একদিন ‘অভয় শঙ্খ’ বাজাবেন—অর্থাৎ ভয় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সাহস ও ধর্মের বার্তা প্রচার করবেন। মানুষকে ‘নারায়ণী সেনা’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যার অর্থ হলো—সত্য, ন্যায় ও ঈশ্বরের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করা।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৪) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড করা হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৯ মাস।
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর ১৯৫৭ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৫৮৯।
  • রেকর্ড: এইচএমভি [মার্চ ১৯৩৮ (ফাল্গুন-চৈত্র ১৩৪৪)]। এন ১৭০৪৯। শিল্পী: বিজনবালা ঘোষ।
     
  • সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: আহসান মুর্শেদ [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি সাতচল্লিশতম খণ্ড। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। ফাল্গুন ১৪২৫/ফেব্রুয়ারি ২০১৯] পৃষ্ঠা: ৫৭-৫৯ [নমুনা]
     
  • পর্যায়
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। জগৎকল্যাণরূপী
    • সুরাঙ্গ: ভজন
    • তাল: দাদরা
    • গ্রহস্বর:

 

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।