নাথ সহজ কর লঘু কর এই জীবনের ভাব (nath sohoj koro loghu)
নাথ সহজ কর লঘু কর এই জীবনের ভাব।
সুন্দর ও সরল কর জটিল এ সংসার॥
লোভ দিও না তৃপ্তি দিও
অল্পে যেন মন ভুলিও
শক্তি দিও ধৈয দিও দুঃখ সহিবার॥
বিপুল হয়েও সাগর যেমন হিল্লোলিয়া ওঠে
তেমনি যেন বোঝা বয়েও গানের ভাষা ফোটে।
সারা দিনের শ্রমের পরে
ডাক্ব তোমায় পরান ভরে
তোমার নামের ভেলায় চড়ে হেসে হব ভব পার॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে মানুষ তার জীবনের জটিলতা, দুঃখ ও সংগ্রামের মধ্যেও সহজ, সংযমী, ধৈর্যশীল এবং ঈশ্বরনির্ভর জীবন লাভের জন্য পরমসত্তার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। এখানে ভক্ত জাগতিক সুখ-সম্পদ নয়, বরং মানসিক শান্তি, তৃপ্তি, সহিষ্ণুতা এবং আধ্যাত্মিক শক্তিই কামনা করেছেন তাঁর কাছে।
গানের শুরুতে কবি পরমসত্তাকে 'নাথ' বলে সম্বোধন করে জীবনের ভার ও জটিলতা লাঘব করার প্রর্থনার সূচনা করা হয়েছে। তিনি প্রার্থনা করেন, যেন তাঁর জীবন সহজ, সুন্দর ও সরল হোক এবং সংসারের নানা জটিলতা যেন তাঁর কৃপায় সহজ অতিক্রান্ত হোক।
তিনি ধন-সম্পদ বা অশেষ ভোগলালসা চান না; বরং প্রার্থনা করেন, পরমসত্তা যেন তাঁকে লোভমুক্ত রাখেন এবং অল্পেই তৃপ্ত থাকার মানসিকতা দান করেন। পাশাপাশি তিনি জীবনের দুঃখ-কষ্ট, বিপদ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার জন্য শক্তি ও ধৈর্য প্রার্থনা করেন। অর্থাৎ, দুঃখ দূর করার চেয়ে দুঃখ সহ্য করার শক্তিকেই তিনি অধিক মূল্যবান বলে মনে করেন।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি সাগরের উপমার মাধ্যমে জীবনের এক অনন্য সত্য তুলে ধরেছেন। বিশাল সাগর যেমন অসীম জলরাশি ধারণ করেও ঢেউ তুলে আপন ছন্দে আন্দোলিত থাকে, তেমনি মানুষও জীবনের নানা দায়িত্ব ও বোঝা বহন করেও যেন তার প্রাণের সঙ্গীত, সৃজনশীলতা ও আশাবাদ হারিয়ে না ফেলে। অর্থাৎ কর্তব্যের ভার যেন জীবনের আনন্দ ও সৌন্দর্যকে নিঃশেষ না করে।
শেষ স্তবকে ভক্ত বলেন, সারাদিনের কর্ম ও পরিশ্রম শেষে তিনি পরম ভক্তিভরে পরমসত্তাকে স্মরণ করবেন। পরমসত্তার নামই হবে তাঁর জীবনের ভেলা, যার আশ্রয়ে তিনি ভবসাগর অতিক্রম করবেন। এখানে 'তোমার নামের ভেলা' পরমসত্তা স্মরণ, ভক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং 'ভব পার হওয়া' জন্ম-মৃত্যু, দুঃখ ও সংসারবন্ধন থেকে মুক্তিলাভের প্রতীক। এই মুক্তি তিনি হাসিমুখে, ঈশ্বরের কৃপায় অর্জন করতে চান।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি [সোমবার, ১২ মাঘ ১৩৪৩] এইচএমভি কোম্পানির সাথে নজরুলের একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে গানটি ছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৭ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৩০০০। পৃষ্ঠা: ৯১৭]
- রেকর্ড: ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি [সোমবার, ১২ মাঘ ১৩৪৩] এইচএমভি কোম্পানির সাথে নজরুলের একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে গানটি ছিল।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। বন্দনা