নিশিদিন জপে খোদা দুনিয়া জাহান (nishidin jope khoda)

নিশিদিন জপে খোদা দুনিয়া জাহান – জপে তোমারি নাম।
তারায় গাঁথা তস্বি ল’য়ে নিশীতে আসমান – জপে তোমারি নাম॥
ফুলের বনে নিতি গুঞ্জরিয়া
ভ্রমর বেড়ায় তব নাম জপিয়া,
হাতে ল’য়ে ফুলকুঁড়ির তস্বি ফুলের বাগান – জপে তোমারি নাম॥

সাঁঝ সকালে কোকিল পাপিয়া
মধুর তব নাম ফেরে গাহিয়া,
ছল ছল সুরে ঝর্নার ধারা নদীর কলতান – জপে তোমারি নাম॥
বৃষ্টি ধারার তস্বি ল’য়ে
তব নাম জপে মেঘ ব্যাকুল হয়ে,
সাগর-কল্লোল, সমীর-হিল্লোল বাদল ঝড়-তুফান – জপে

  • ভাবসন্ধান: এই গানে আল্লাহর মহিমা সর্বব্যাপী ধ্বনিত হচ্ছে- কবি তাঁর এই উপলব্ধিকে উপস্থাপন করেছেন এই গানে। আল্লাহর স্মরণ সর্বজনীন; সমগ্র বিশ্বপ্রকৃতি নিরন্তর তাঁর ইবাদতে নিমগ্ন। আকাশ, তারা, ফুল, ভ্রমর, পাখি, নদী, মেঘ, বৃষ্টি, সমুদ্র ও বাতাস—সবকিছুই নিজস্ব ভাষায় আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করছে। 

    গানের শুরুতেই আল্লাহর মহিমা জপের ভাবটি রূপকল্পের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন- এই মহাবিশ্ব  ও মহাকাশ বন্দনায় বিনিদ্র রাত্রি যাপন করে। রাত্রির আকাশের অসংখ্য তারাকে কবি তাসবিহের দানার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেই তারামালা নিয়ে আকাশ আল্লাহর জিকিরে মগ্ন। এখানে 'তারায় গাঁথা তস্বি’ একটি চমৎকার কাব্যিক রূপক, যা বোঝায়—সৃষ্টিজগতের প্রতিটি উপাদান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করছে।

    গানটির পরবর্তী অংশে কবি পার্থিব নানা উপকরণকে নাম জপের চিত্রকল্প রূপে উপস্থাপন করেছেন। তিনি মনে করেন- ভ্রমরের গুঞ্জন যেন আল্লাহর নামজপ, আর ফুলের কুঁড়িগুলো যেন তাসবিহের দানা। অর্থাৎ প্রকৃতির সৌন্দর্য, সুবাস ও সুরেলা ধ্বনির মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ ধ্বনিত হয়। এখানে কবি প্রকৃতিকে জীবন্ত ইবাদতকারীরূপে কল্পনা করেছেন। কবি শুনতে পান- কোকিল-পাপিয়ার গানে, ঝরনা ও নদীর কলকল ধ্বনির মধ্যে আল্লাহর নাম। সকাল-সন্ধ্যায় পাখির গান, ঝরনার স্রোত এবং নদীর কলতান, বৃষ্টিধারা—সবই যেন  আল্লাহর নাম জপ করে চলেছে। মেঘ ব্যাকুল হয়ে তাঁর স্মরণে মগ্ন, আর সমুদ্রের গর্জন, বাতাসের হিল্লোল, ঝড় ও তুফানের প্রচণ্ড শব্দ প্রতিনিয়ত আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করছে।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৪) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • জুলফিকার
      • দ্বিতীয় সংস্করণ [ডিসেম্বর, ১৯৫২ (পৌষ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)]
      • নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২। জুলফিকার দ্বিতীয় খণ্ড। ৩৩ [৩২]। পৃষ্ঠা ১০৭-১০৮]
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর ১৫২৪ সংখ্যক গান।
  • পত্রিকা: মোয়াজ্জিন (পৌষ ১৩৪৫ (ডিসেম্বর ১৩৩৮-জানুয়ারি ১৯৩৯)।
  • রেকর্ড: এইচএমভি  [জুলাই ১৯৩৭ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৪)। এন ৯৯২৬। শিল্পী: রৌশন আরা বেগম। সুর: কমল দাশগুপ্ত]
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত, ইসলাম ধর্ম। আল্লাহ। হামদ

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।