নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম (nil jomuna solil kanti chikon)
নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম।
তব শ্যামরূপে শ্যামল হল সংসার ব্রজধাম॥
রৌদ্রে পুড়িয়া তপিতা অবনী
চেয়েছিল শ্যাম-স্নিগ্ধা লাবনি,
আসিলে অমনি নবনীত তনু
ঢলঢল অভিরাম চিকন ঘনশ্যাম॥
আধেক বিন্দু রূপ তব দুলে ধরায় সিন্ধুজল
তব ছায়া বুকে ধরিয়া সুনীল হইল গগনতল।
তব বেণু শুনি,’ ওগো বাঁশুরিয়া,
প্রথম গাহিল কোকিল পাপিয়া,
হেরি কান্তার-বন-ভুবন ব্যাপিয়া
বিজড়িত তব নাম; চিকন ঘনশ্যাম॥
- পাঠভেদ:
- নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম [নজরুল সঙ্গীত সংগ্রহ]
কালো কালিন্দী-শ্যামল-কান্তি চিকন ঘনশ্যাম [হারানো গানের খাতা]
- নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম [নজরুল সঙ্গীত সংগ্রহ]
- ভাবসন্ধান: এই গানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্যামসুন্দর রূপ, তাঁর বিশ্বমোহিনী সৌন্দর্য এবং সমগ্র প্রকৃতির উপর তাঁর ঐশী প্রভাব অত্যন্ত কাব্যিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কৃষ্ণের নীলাভ, স্নিগ্ধ ও মনোহর রূপকে যমুনার নীল জল, নবঘন মেঘ এবং ব্রজধামের শ্যামল সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাঁর আগমনে শুষ্ক ও দগ্ধ পৃথিবী নবজীবন, শীতলতা এবং অপরূপ লাবণ্য লাভ করে। তাঁর কোমল, নবনীতসম দেহমাধুর্য বিশ্বপ্রকৃতিকে সৌন্দর্য ও শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তোলে।
কবি কবি মনে করেন- শ্রীকৃষ্ণের রূপের সামান্য আভাসেই সমুদ্রের জল নীলাভ কান্তি ধারণ করেছে এবং তাঁর ছায়া ধারণ করেই আকাশ সুনীল বর্ণে রঞ্জিত হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্বপ্রকৃতির সমস্ত সৌন্দর্য তাঁরই সৌন্দর্যের প্রতিফলন। তাঁর রূপ ও মহিমা কেবল ব্রজভূমিতেই সীমাবদ্ধ নয়; সমগ্র সৃষ্টিজগতেই তার প্রকাশ ঘটেছে।
গানটির শেষাংশে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির অলৌকিক সুরের প্রভাব উপস্থাপিরত হয়েছে। তাঁর বাঁশির ধ্বনি শুনে কোকিল ও পাপিয়া প্রথম সুরে গান গেয়ে ওঠে, আর বন-উপবন, প্রকৃতি ও সমগ্র ভুবন তাঁর নামধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। এখানে বাঁশির সুর কেবল সংগীত নয়, বরং ঈশ্বরের প্রেম, আনন্দ ও চিরকল্যাণের আহ্বানের প্রতীক। তাঁর উপস্থিতিতে সমগ্র সৃষ্টি প্রাণময়, সুরময় ও আনন্দময় হয়ে ওঠে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার ২৬ অগ্রহায়ণ ১৩৪২) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানির সাথে নজরুলের গান রেকর্ডের বিষয় চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তিতে এই গানটি ছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ:
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ। ১৯৮৩ সংখ্যক গান। তাল: দাদরা পৃষ্ঠা: ৫৯৬।
- নজরুলের হারানো গানের খাতা [নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা। আষাঢ় ১৪০৪/জুন ১৯৯৭। গান সংখ্যা ১২৬। for Nitai Ghatak (Twin) । ভজন। পৃষ্ঠা: ১৫৩।]
- রেকর্ড:
- এইচএমভি'র সাথে নজরুলে চুক্তি [১২ ডিসেম্বর ১৯৩৫ (বৃহস্পতিবার ২৬ অগ্রহায়ণ ১৩৪২)]।
- টুইন [জানুয়ারি ১৯৩৬ (পৌষ-মাঘ ১৩৪২)[। এফটি ৪২১৩। শিল্পী: নিতাই ঘটক।
- পত্রিকা:
- সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- জগৎঘটক। ভারতবর্ষ [জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৪ (মে -জুন ১৯৩৭)। [নমুনা]
- আহসান মুর্শেদ [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি সাতচল্লিশতম খণ্ড। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। ফাল্গুন ১৪২৫/ফেব্রুয়ারি ২০১৯] পৃষ্ঠা: ৫৭-৫৯ [নমুনা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। শ্রীকৃষ্ণ। বন্দনা
- সুরাঙ্গ: ভজন
- তাল: দাদরা
- গ্রহস্বর:
- স [জগৎ ঘটক-কৃত স্বরলিপি]
- রসা [আহসান মুর্শেদ-কৃত স্বরলিপি]