নূরজাহান, নূরজাহান ! (nurjahan nurjahan)
নূরজাহান, নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে, ইরানি গুলিস্তান॥
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর-লতা
শিঁরি ফরহাদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি'
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান॥
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম, সে যে রাজাধিরাজ ─
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক-লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে,
দেবে চিরদিন নন্দন-লোক-চারী
তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান॥
- পাণ্ডুলিপি নমুনা।
- ভাবসন্ধান: এই গানে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহান-এর রূপ, ব্যক্তিত্ব, প্রেম এবং ইতিহাসে তাঁর অমর স্থানকে কাব্যিক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। কবি কল্পনা করেছেন যে, ইরানের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক নূরজাহান যেন সিন্ধু নদী পেরিয়ে ভারতভূমিতে আগমন করেছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছে ইরানের গুলিস্তানের গোলাপ, নার্গিস, লালা, আঙুরলতা এবং শিরি-ফরহাদের প্রেমকাহিনির মতো প্রেমময় ঐতিহ্য। তাঁর রূপ, সৌন্দর্য, সঙ্গীতপ্রেম ও শিল্পরুচি ভারতীয় সভ্যতাকে নতুন মহিমায় সমৃদ্ধ করেছে।
নূরজাহানের অনিন্দ্য সৌন্দর্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর (সেলিম) তাঁর প্রেমে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি লোকলজ্জা, সামাজিক সমালোচনা কিংবা রাজমর্যাদার বাধা উপেক্ষা করে নূরজাহানকে আপন করে নিয়েছিলেন। সমাজ যাকে কলঙ্ক বলে মনে করেছিল, কবির দৃষ্টিতে সেই কলঙ্ক ছিল প্রকৃত প্রেমের গৌরবময় চিহ্ন। যেমন চাঁদের কলঙ্ক তার সৌন্দর্যকে ম্লান না করে বরং আরও স্মরণীয় করে তোলে, তেমনি সত্যিকার প্রেমের ইতিহাসেও এমন কলঙ্ক অপমান নয়, বরং প্রেমের মহিমা ও আত্মত্যাগের সম্মানচিহ্ন হয়ে চিরদিন অম্লান থাকে।
সমগ্র গানটিতে নূরজাহানের সৌন্দর্য, শিল্পরুচি, প্রেমের মহত্ত্ব এবং তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে রোমান্টিক ও কাব্যিক দৃষ্টিতে মহিমান্বিত করা হয়েছে। এখানে প্রেমকে সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে এক চিরন্তন ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (এপ্রিল-মে ১৯৪১) মাসে সওগাত পত্রিকায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ১১ মাস।
- গ্রন্থ:
- পঞ্চাঙ্গনা, নজরুল রচনাবলী অষ্টম খণ্ড [বাংলা একাডেমী। ১২ ভাদ্র ১৪১৫, ২৭ আগষ্ট ২০০৮। গান ২। পৃষ্ঠা: ২৪০
- পঞ্চাঙ্গনা। নজরুল রচনাবলী অষ্টম খণ্ড [বাংলা একাডেমী। ১২ ভাদ্র ১৪১৫, ২৭ আগষ্ট ২০০৮। গান ২। পৃষ্ঠা: ২৪০
- নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। ৫৪১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা ১৬৫]
- বেতার:
- পঞ্চাঙ্গনা: গীতি-আলেখ্য। কলকাতা বেতারকেন্দ্র নূরজাহান, তৃতীয় অধিবেশন। [২৩ আগষ্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (শনিবার,৭ ভাদ্র ১৩৪৮)। রাত ৮টা থেকে ৮-২৯ মিনিট। নূরজাহানের গান। শিল্পী: শৈল দেবী। সুর: নজরুল ইসলাম।]
- একক শিল্পীর অনুষ্ঠান। কলকাতা বেতারকেন্দ্র। প্রথম অধিবেশন। ১০ আগষ্ট ১৯৪১ (রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৩৪৮) প্রাতঃকাল ৮-৫০ মিনিট। শিরোনাম রাগ-প্রধান। শিল্পী: শৈল দেবী।
[সূত্র:
- বেতার জগৎ ১২শ বর্ষ, ১৫শ সংখ্যা। ১ আগষ্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (১৬ শ্রাবণ ১৩৪৮)। পৃষ্ঠা: ৯০০
- The Indian-listener. 1941- Vol-VI-1, page 67]
- পত্রিকা:
- সওগাত। বৈশাখ, ১৩৪৮ (এপ্রিল-মে ১৯৪১)
- বেতার জগৎ।
- ১২শ বর্ষ, ১৫শ সংখ্যা। ১ আগষ্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (১৬ শ্রাবণ ১৩৪৮)।
শিরোনাম: এবারের একটি গান। (১০শে আগষ্ট, রবিবার। প্রাতঃকাল ৮-৫০ মিনিট)। গায়িকা-শৈল দেবী। পৃষ্ঠা: ৮৬৩-৮৬৬। স্বরলিপিকার: জগৎ ঘটক। সুর: কাজী নজরুল ইসলাম [নমুনা] - ১২শ বর্ষ, ১৬শ সংখ্যা। ১৬ আগষ্ট ১৯৪১ [৩২ শ্রাবণ ১৩৪৮] অনুষ্ঠান শিরোনাম: পঞ্চাঙ্গনা। প্রথম অধিবেশন। রাত ৮টা থেকে ৮-৩৯ মিনিট। পৃষ্ঠা: ৯৬৮।
- ১২শ বর্ষ, ১৫শ সংখ্যা। ১ আগষ্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (১৬ শ্রাবণ ১৩৪৮)।
- রেকর্ড: এইচএমভি [সেপ্টেম্বর ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৮)। এন ২৭১৮০। শিল্পী: ইলা ঘোষ। সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম। [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- জগৎ ঘটক। বেতার জগৎ। ১২শ বর্ষ, ১৫শ সংখ্যা [নমুনা]
- নীলিমা দাস। [নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, ঊনত্রিশতম খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। শ্রাবণ ১৪১৩/আগষ্ট ২০০৬] ২১ সংখ্যক গান। ইলা ঘোষ-এর রেকর্ডে গাওয়া গান অনুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। [নমুনা]
- পর্যায়: