ফুলের বনে আজ বুঝি সেই

ফুলের বনে আজ বুঝি সেই
রূপসায়রের ঢেউ লেগেছে।
ঘুমিযে পড়া শ্যাম-ভ্রমরা
গুন্গুনিয়ে গান ধ’রেছে॥
কুড়িয়ে পাওয়া কুসুম দলে
ডুবিয়ে নিয়ে শিশির-জলে,
পরতে ধরা আপন গলে মালা গেঁথেছে॥
প্রেম-পিয়াসীর বুকের কাঁদন
জাগিয়ে দিল মলয় পবন,
পরান-বঁধুর কাজল নয়ন মনে জেগেছে॥

  • ভাবার্থ: এই গানটিতে ফুলকে শৃঙ্গার রসের মোহিত রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে নানা রূপকতায়। যেন পুষ্পের দোলায়িত ছন্দের আবেশে প্রকৃতিতে জেগে উঠে প্রণয়াকাঙক্ষা। এই গানের ফুল হয়ে উঠেছে প্রেমের সঞ্চালিকা।

    ফুলের সৌন্দর্যে মোহনীয় আবেশে ঝিমিয়ে পড়া প্রকৃতির বুকে জেগে উঠে পুষ্পিত যৌবন। যেন যৌবন সরোবরে মোহনীয় ঢেউয়ের স্পর্শ জেগে ওঠে প্রকৃতির অঙ্গে অঙ্গে।

    এই যৌবনের ছন্দে ঝিমিয়ে পড়া শ্যামরূপী ভ্রমর যেন শৃঙ্গার রসে জেগে উঠে এবং ফুলকে ঘিরে গানে মেতে উঠেছে। ধরিত্রী যেন কুড়িয়ে পাওয়া শিশির-স্নাত ফুল দিয়ে মালা গেঁথে নিজের গালয় ধারণ করেছে। এরই ছোঁয়ায় প্রেম-পিয়াসীর মনে জাগে না-পাওয়ার বেদনা, জাগিয়ে দেয় প্রণয়ের মৃদুমন্দ পবনকে। হৃদয়ের গভীরে ভেসে ওঠে পরান-বঁধুর কাজল নয়ন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
  • গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্‌ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান ১৫৭২। পৃষ্ঠা ৪৭১]

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।