বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর (badol jhor jhor ashilo bhador)
বাদল ঝর ঝর আসিল ভাদর
বহিছে তরলতর পুবালি পবন।
মেঘলা যামিনী, দামিনী চমকায়
কালো মেয়ের ভীরু প্রেমের মতন॥
আমি ভলে গেছি, মেঘেরা ভোলেনি
সেই কালো চোখ, সেই বিনুনী-বেণী,
প্রিয়ার দূতী সম, স্মরণে আনে মম
এসেছিল একদিন এমন শুভ-লগন॥
আর কিছু ছিল কি, ছিল না ত’ স্মরণে,
শুধু জানি দুই জন ছিনু এ্ই ভুবনে।
সহসা মোদের মাঝে ছুটে এলো পারাপার
কে কোথায় হারাইনু, কূল নাহি পেনু আর,
মনে পড়ে বরষায়, তার সেই অসহায়
বিদায় বেলার আঁখি অশ্রু-সঘন॥
- ভাবার্থ: ঋতু পর্যায়ে ভাদ্র হলো- শরতের প্রথম মাস। বর্ষার শেষ সওগাত হিসেবে ভাদ্রে আসে বাদল-বরিষন। তখনো প্রবাহিত হয় সজল পুবালি বাতাস। তাই একে বলা যায় ভাদ্র মাসের বর্ষার গান। আবার এই গানে উঠে এসেছে শেষ বর্ষার প্রবল বন্যায় তাঁর প্রেয়সীকে হারনোর দুঃখের স্মৃতিকথা।
বর্ষার মতোই ভাদ্রের মেঘলা রাতে অবিরল বর্ষণের সাথে বিদ্যুতের চমক জাগায়। যেমন করে চমক জাগিয়েছিল, তার প্রেয়সীর ভীরু প্রেমাকাশে প্রেমের রোমাঞ্চিত অনুভব।
কবি ভুলে গিয়েছিলেন এমন দিনের কথা, কিন্তু মেঘেরা ভোলেনি। কালো ভাদরের রাত্রি যেন- কবির কাছে এসেছে হারানো প্রেয়সীর অবয়বে। কবি এই কালো রাত্রির মাঝে দেখতে পান- তার কালো চোখ, তার বিনুনী-বেণী। যেন প্রিয়ার দূতীর মতো এই রাত্রি তার কাছে, হারানো প্রিয়ার বার্তা বয়ে আনে। কবেকার স্মৃতিকাতরায় ভেসে ওঠে, কোনো এক শুভ দিনের শুভলগনে তারা এসেছিল কাছাকাছি। অকস্মাৎ ছুটে এলো সাগরের মতো বন্যা। তারপর দেখা হালো। শেষ বারের মতো কবি দেখেছিলেন তার বিদায় বেলার আঁখি অশ্রু।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৬০৮। পৃষ্ঠা: ৪৮১]
- [শ্রবণ নমুনা]
-
সুদিপ্তা সরকার কথা [ শ্রবণ নমুনা ] (নজরুল উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে প্রকাশিত ১২৫ জন শিল্পীর গান)
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: প্রকৃতি। ঋতু। শরত। ভাদ্র