মম বন-ভবনে ঝুলন দোলন (momo bon-bhobone jhulon dolon)

মম বন-ভবনে ঝুলন দোলনা দে-দুলায়ে উতল পবনে
মেঘ-দোলা দুলে বাদল গগনে॥
আয় ব্রজের ঝিয়ারি পরি' সুনীল শাড়ি
নীল কমল কুঁড়ি দুলায়ে শ্রবণে॥
নবীন ধানের মঞ্জরি কর্ণে
তপ্ত বক্ষ ঢাকি' শ্যামল পর্ণে
ওড়না ছুপায়ে রাঙা রামধনু বর্ণে
আয় প্রেম-কুমারীরা আয় লো,
উদাসী বাঁশির সুরে ডাকে শ্যামরায় লো।
ঝরিবে আকাশে অবিরল বৃষ্টি
শ্যাম-সখা সাথে হবে শুভ-দৃষ্টি
এই ঝুলনের মধু-লগনে॥

  • ভাবসন্ধান:  বর্ষার সজীব, স্নিগ্ধ ও রোমান্টিক পরিবেশকে কেন্দ্র করে এই গানে ঝুলন-উৎসবের আনন্দময় আহ্বান উপস্থাপিত হয়েছে। কবি তাঁর বনভবনে ঝুলনদোলনা সাজিয়েছেন। উতল বাতাসে সেই দোলনা দুলছে, আর আকাশে বর্ষার মেঘও যেন দোলনার মতো দুলে দুলে বেড়াচ্ছে। প্রকৃতির সর্বত্র তখন বর্ষার দোলন-ছন্দে উচ্ছ্বিসত।

    কবি ব্রজের তরুণীদের আহ্বান জানাচ্ছেন- তারা যেন সুনীল শাড়ি পরে আসে এবং কানে নীল কমলকুঁড়ির অলংকার ধারণ করে। নবীন ধানের শিষ, শ্যামল পাতা, রঙিন ওড়না—প্রকৃতির নানা রঙ ও সৌন্দর্যের সঙ্গে তাদের সাজসজ্জা মিলেমিশে এক অপরূপ চিত্র সৃষ্টি করেছে। এখানে মানবসৌন্দর্য ও প্রকৃতিসৌন্দর্য যেন একাকার হয়ে গেছে।

    এরপর কবি সকল প্রেম-কুমারীকে আহ্বান করেছেন। কারণ উদাসী বাঁশির সুরে তাঁদের ডাকছেন শ্যামরায়, অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ। কৃষ্ণের বাঁশির সুর প্রেম, আকুলতা ও মিলনের আহ্বান বহন করে। সেই সুর শুনে ব্রজের তরুণীরা আনন্দময় ঝুলন-উৎসবে মিলিত হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

    গানের শেষাংশে কবি বলেছেন, আকাশ থেকে অবিরাম বৃষ্টি ঝরবে এবং এই শুভ ঝুলন-ক্ষণে শ্যামসখার সঙ্গে হবে শুভদৃষ্টি—অর্থাৎ প্রেমময় মিলনের সৌভাগ্যলাভ। বর্ষার বৃষ্টি, দুলন্ত মেঘ, বনভবনের ঝুলনদোলনা, বাঁশির সুর এবং কৃষ্ণপ্রেম—সব মিলিয়ে গানটিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য, প্রেমের আকুলতা ও কৃষ্ণভক্তির আনন্দময় মিলনোৎসব ফুটে উঠেছে।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট ((শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৪) মাসে  এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময়ে নজরুলের বয়স ছিল  ৩৮ বৎসর ২ মাস।
     
  • রেকর্ড: এইচএমভি [আগষ্ট ১৯৩৭ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৪)। এন ৯৯৩৪। শিল্পী: মানিকমালা। সুর: নজরুল ইসলাম।  [শ্রবণ নমুনা]
  • বেতার:  'ঝুলন' (গীতি-আলেখ্য)। জগৎঘটক। কলকাতা বেতার কেন্দ্র। [২৯ আগষ্ট ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দ (মঙ্গলবার, ১২ ভাদ্র ১৩৪৬)। সান্ধ্য অধিবেশন। ৭.০০-৭.৫৯ মিনিট।
    • সূত্র:
      • বেতার জগৎ: ১০ম বর্ষ ১৬শ সংখ্যার [পৃষ্ঠা: ৬৩৭]
      • The Indian Listener. Vol. IV No 16 Page 1183
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:  সুধীন দাশ। [ নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, পঞ্চম খণ্ড। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা] ২১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ১০৭-১০৯।  [নমুনা] 
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। ঝুলনোৎসব
    • সুরাঙ্গ: ঝুলন
    • তাল: কাহারবা
    • গ্রহস্বর: গা।

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।