সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় (sajher pakhira firilo kulay)

সাঁঝের পাখিরা ফিরিল কুলায় তুমি ফিরিলে না ঘরে,
আঁধার ভবন জ্বলেনি প্রদীপ মন যে কেমন করে॥
            উঠানে শূন্য কলসির কাছে
            সারাদিন ধরে ঝ'রে প'ড়ে আছে
তোমার দোপাটি গাঁদা ফুলগুলি যেন অভিমান ভরে॥
বাসন্তী রাঙা শাড়িখানি তব ধূলায় লুটায় কেঁদে,
তোমার কেশের কাঁটাগুলি বুকে স্মৃতির সমান বেঁধে।
            যাইনি বাহিরে আজ সারাদিন
            ঝরিছে বাদল শ্রান্তিবিহীন
পিয়া পিয়া ব'লে ডাকিছে পাপিয়া এ বুকের পিঞ্জরে॥

  • ভাবসন্ধান: প্রিয়া-সঙ্গহারা কবির নিঃসঙ্গতা, স্মৃতিকাতরতা, প্রেমাকাঙ্ক্ষা এবং বিরহকাতরতার আকুতিকে উপস্থাপিত হয়েছে- পাখি, ফুল, বৃষ্টি'র রূপকল্পের অপরূপ মাধুর্যে। প্রকৃতির এসকল উপাদান হয়ে উঠেছে তাঁর বিরহকাতরতার অনুষঙ্গ হয়ে।

    যেমন দিন শেষে সাঁঝের পাখিরা আপন নীড়ে ফিরে আসে, তেমন করে কবির প্রিয়া ঘরে ফেরে নি। কবির না পাওয়া বেদনার এই হাহাকার তীব্রভাবে শ্রোতার মনকে করুণ রসে আবেশিত করে তোলে। কবির এই ঘর শুধু পার্থিব আবাস নয়, এ ঘর মনলোকের দ্বিপান্বিত ঘর। যে ঘরে প্রিয়া আসে নি বলেই ভরে গেছে নিঃসঙ্গতা ও শূন্যতার অন্ধকারে ভরে গেছে।

    প্রিয়া বাসন্তী শাড়ি স্মৃতির ধূলায় মলিন হয়ে মিশে কবি হৃদয়কে বেদনার্ত করে তুলেছে। এ শাড়িও কবির কাছে প্রিয়ার (যৌবনাভরণ)। তার কেশের কাঁটাগুলো যেন হৃদয়ে প্রেমকণ্টক হয়ে আহত করে চলেছে। একই সাথে এ সবই বেদনাবিধূর স্মৃতিকাতরতা হয়ে কবি-হৃদয়কে ব্যথাতুর করে তুলেছে। কবি হৃদয়-জুড়ে বেদনার যে করুণ রস অবিরাম বৃষ্টিধারা মতো বয়ে চলে, তারই অভিঘাতে সঙ্গহীন কবি ভিতরে-বাইরে অবরুদ্ধ করে রাখেন নিজেকে। তাই প্রিয়ার আসঙ্গ লিপ্সু কবির মন-পাপিয়া তাঁর বুকের পিঞ্জরে বন্দী হয়ে প্রিয়াসঙ্গের কাতরতায় অবিরাম ডাকে।

     
  • রচনাকাল ও স্থান:  গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৪) এইচএমভি গানটির রেকর্ড করেছিল। এর মাদার কাস্ট নম্বর ছিল ওএমসি ৩৮৮৭। রেকর্ডটি পরে বাতিল হয়ে যায়। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ১ মাস।
     
  • গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। রাগ: আশা, তাল: কাহারবা/দাদরা । গান সংখ্যা ৬০৯]
     
  • রেকর্ড:
    • এইচএমভি [জুন ১৯৩৭ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৪)। শিল্পী: সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায়। মাদার কাস্ট নম্বর ওএমসি ৩৮৮৭। সুরকার: নজরুল ইসলাম। মিশ্র বারোয়াঁ। রেকর্ডটি পরে বাতিল হয়ে যায়।] উদ্ধারকৃত রেকর্ডের শ্রবণ নমুনা।
    • এইচএমভি [এপ্রিল ১৯৪০ (চৈত্র ১৩৪৪-বৈশাখ ১৩৪৫)। এন ১৭৪৪৫। শিল্পী: ইন্দুবালা। সুর কমল দাশগুপ্ত। ইমন মিশ্র-দাদরা][শ্রবণ নমুনা] [খায়রুল আনাম শাকিল (শ্রবণ নমুনা)] [শারমিন সাথী ময়না (শ্রবণ নমুনা)]
  • স্বরলিপিকার ও স্বরলিপি: আসাদুল হক। নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি (চতুর্থ খণ্ড)। দ্বিতীয় মুদ্রণ [নজরুল ইন্সটিটিউট। অগ্রহায়ণ ১৪০২। নভেম্বর ১৯৯৫। ২০ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা  ১০০-১০২]  [নমুনা]
     
  • সুরকার: কাজী নজরুল ইসলাম
  •  পর্যায়:
    • বিষায়াঙ্গ: প্রেম
    • সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
    • তাল: দাদরা
    • গ্রহস্বর: সা

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।