জবা কুসুম-সঙ্কাশ ঐ উদার অরুণোদয় (joba kushumo-shonkash oi udar orunodoy)

জবা কুসুম-সঙ্কাশ ঐ উদার অরুণোদয়
অপগত তমোভয় জয় হে জ্যোতির্ময়॥
জননীর সম স্নেহ-সজল, নীল গাঢ় গগন-তল
সুপেয় বারি প্রসুন ফল 

তব দান অক্ষয়, অপহৃত সংশয়
                      জয় হে জ্যোতির্ময়॥

  • ভাবসন্ধান: এই গানটির সাথে সূর্য-প্রণাম মন্ত্রের মিল রয়েছে। মূল মন্ত্রটি
    “জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
    ধান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোৎস্মি দিবাকরম্॥”
    এর সরলার্থ- জবা ফুলের ন্যায় রক্তিম আভাময়, কাশ্যপ ঋষির পুত্র, মহান তেজস্বী, অন্ধকার ও পাপের বিনাশকারী সেই সূর্যদেবকে আমি প্রণাম করছি।

    নজরুলের গানটি এই শ্লোকের ছায়া থাকলেও তা সনাতন হিন্দু ধর্মের আদরশের বিচারে যথার্থ সূর্যদেবের স্তব বা প্রণাম মন্ত্র হয়ে ওঠে নি। সনাতন ধর্মের আদলে সূর্যবন্দনার মতো গানটি শুরু হলেও- কবি এই গানে উদীয়মান সূর্যকে জবা ফুলের মতো রক্তিম, উজ্জ্বল ও প্রাণময় রূপে কল্পনার আদর্শে উপদ্থাপন করেছেন মাত্র্। কবির কাছে ভোরের সূর্য শুধু আলোকপ্রদায়ী সত্তা নয়, সূর্যোযোদয় তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে এক মহৎ ও উদার উদ্ভাসন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার ও ভয়ের অবসান ঘটে। এ গানের আলো হলো- আশা, সাহস ও নবজাগরণের প্রতীক। তাই কবি সেই জ্যোতির্ময় শক্তিকে জয়ধ্বনি দিয়েছেন।

    সূর্যকে কবি মাতৃস্নেহময় শক্তি হিসেবে দেখেছেন। যেমন মা সন্তানকে স্নেহে লালন করেন, তেমনি সূর্য সমগ্র বিশ্বকে আলোক ও উষ্ণতায় ধারণ করে রাখে। নীলাকাশ তার আশ্রয়ভূমি। পৃথিবীর জল, ফুল, ফল—সব জীবনের উপকরণ সূর্যের দান। তাঁর শক্তি ছাড়া প্রকৃতির কিছুই সম্ভব নয়। তাঁর দান অনন্ত ও অবিরাম।   আলো যেমন অন্ধকার দূর করে, তেমনি জ্ঞান ও সত্য মানুষের সংশয় দূর করে। সূর্য এখানে জ্ঞান ও সত্যের প্রতীক। এ গানের সূর্য দেবতারূপে প্রতিভাত হলেও- সূর্যদেবতার চেয়ে মহান।

     

  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় না। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে (শনিবার ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৮), মন্মথ রায় রচিত 'সাবিত্রী' নাটকটি কলকাতার নাট্যনিকেতনে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল। এই নাটকে এই গানটি ছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩২ বৎসর ১ মাস।
     
  • মঞ্চ: নাট্যনিকেতন। ৩০ মে ১৯৩১ (শনিবার ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৮)।  মন্মথ রায়ের রচিত নাটক। এই নাটকের সঙ্গীত রচয়িতা এবং সুরকার ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম
     
  • গ্রন্থ:
    • সাবিত্রী
      • মন্মথ রায়-কর্তৃক রচিত নাটক। [১৩৩৮ বঙ্গাব্দের ১৬ই জ্যৈষ্ঠ মঞ্চস্থ হয়েছিল। প্রথম অঙ্ক। দ্বিতীয় দৃশ্য। নেপথ্যে বেদগান।]
      • মন্মথ রায় নাট্যগ্রন্থাবলী দ্বিতীয় খণ্ড [জগদ্ধাত্রী পূজা ১৩৫৮। ২৫শে নভেম্বর ১৯৫১। সাবিত্রী। প্রথম অঙ্ক। দ্বিতীয় দৃশ্য। নেপথ্যে বেদগান। পৃষ্ঠা: ১৩৭ ]
    • চন্দ্রবিন্দু
      • প্রথম সংস্করণ [সেপ্টেম্বর ১৯৩১, আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ।]
      • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১। চন্দ্রবিন্দু। ১২। ভজন-একতালা। পৃষ্ঠা: ১৬৯]
    • বনগীতি
      • প্রথম সংস্করণ [১৩ অক্টোবর ১৩৩২ (রবিবার ২৭ আশ্বিন ১৩৩৯)। বিভাস মিশ্র-একতাল। পৃষ্ঠা: ৬৬
      • নজরুল-রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮/মে ২০১১। বনগীতি। ৪৫ সংখ্যক গান। বিভাস মিশ্র-একতাল। পৃষ্ঠা ২০৫]
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)] -এর ১৩৯৫ সংখ্যক গান।
  • পর্যায়:

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।