নবীর মাঝে রবির সম আমার মোহাম্মদ রসুল (nobir majhe robir shomo amar mohammad rasul)
নবীর মাঝে রবির সম আমার মোহাম্মদ রসুল।
খোদার হবিব দীনের নকিব বিশ্বে নাই যার সমতুল॥
পাক আরশের পাশে খোদার
গৌরবময় আসন যাঁহার,
খোশ-নসীব উম্মত আমি তাঁর (আমি) পেয়েছি অকূল কূল॥
আনিলেন যিনি খোদার কালাম
তাঁর কদমে হাজার সালাম;
ফকির দরবেশ জপি' সেই নাম (সবে) ঘর ছেড়ে হলো বাউল॥
জানি, উম্মত আমি গুনাহ্গার
হবো তবু পুল্সরাত পার;
আমার নবী হষরত আমার করো মোনাজাত কবুল॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে ইসলামের মহান নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। কবি তাঁকে মানবজাতির মধ্যে সূর্যের মতো উজ্জ্বল, সর্বশ্রেষ্ঠ ও অনন্য মহামানব হিসেবে কল্পনা করেছেন।
কবি বলেন, নবীদের মধ্যে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সূর্যের মতো দীপ্তিমান ও শ্রেষ্ঠ। তিনি আল্লাহর প্রিয়তম হবিব এবং ইসলাম ধর্মের পথপ্রদর্শক। পৃথিবীতে তাঁর মতো মর্যাদা ও গুণের অধিকারী আর কেউ নেই। আল্লাহর নৈকট্যে তাঁর বিশেষ সম্মান রয়েছে; পবিত্র আরশের সান্নিধ্যে তাঁর মর্যাদা অতুলনীয়। তাই তাঁর উম্মত হতে পারাকে কবি নিজের পরম সৌভাগ্য বলে মনে করেছেন এবং মনে করেছেন, তাঁর আশ্রয়ে এসে তিনি জীবনের প্রকৃত পথ ও মুক্তির ঠিকানা লাভ করেছেন।
যিনি মানবজাতির কাছে আল্লাহর পবিত্র বাণী বা কালাম পৌঁছে দিয়েছেন, সেই মহান নবীর চরণে কবি সহস্র সালাম নিবেদন করেছেন। তাঁর প্রেম ও স্মরণে ফকির, দরবেশ ও সাধকরা নিজেদের জাগতিক বন্ধন ভুলে আত্মনিবেদনের পথে এগিয়ে গেছেন। তাঁর নামের স্মরণ মানুষকে ভক্তি, প্রেম ও আধ্যাত্মিক সাধনার পথে পরিচালিত করে।
গানটির শেষাংশে কবির বিনয় ও আত্মঅনুশোচনা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নিজেকে পাপী ও গুনাহগার উম্মত বলে স্বীকার করেছেন। তবু তাঁর বিশ্বাস, প্রিয় নবীর রহমত ও সুপারিশের কারণে তিনি কঠিন পরীক্ষার পথ—পুলসিরাত—অতিক্রম করতে পারবেন। তাই তিনি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে নিজের মোনাজাত কবুল করার জন্য প্রার্থনা করেছেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি (পৌষ- মাঘ ১৩৪০) মাসে এইচএমভি. রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৫ বৎসর।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহে [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান ৩১৫। পৃষ্ঠা: ৫৯০]
- রেকর্ড: এইচএমভি। জানুয়ারি ১৯৩৪ (পৌষ- মাঘ ১৩৪০)। এন ৭১৯১। শিল্পী: কে মল্লিক [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: সুধীন দাশ ও ব্রহ্মমোহন ঠাকুর। [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, একাদশ খণ্ড (নজরুল ইনস্টিটিউট জুন ১৯৯৭)] ১৩ সংখ্যক গান। [নমুনা]
- পর্যায়: