জয় বাণী বিদ্যাদায়িনী (joy bani bidyadayini)

জয় বাণী বিদ্যাদায়িনী।
জয় বিশ্বলোক-বিহারিণী॥
        সৃজন-আদিম-তমো অপসারি'
        সহস্রদল কিরণ বিথারি
আসিলে মা তুমি গগন বিদারি' আলোক-মরাল-বাহিনী॥
        ভারতে ভারতী মূক তুমি আজি,
        বীণাতে উঠিছে ক্রন্দন বাজি,
ছিন্ন চরণ-শতদলরাজি কহিছে পীড়ন-কাহিনি॥
        ঊর মা আবার কমলাসীনা,
        করে ধরো পুন সে রুদ্রবীণা,
নব সুর তানে বাণী পরাধীনা জাগাও অমৃত-ভাষিণী॥

  • ভাবসন্ধান:  ‘ধ্রুব’ নামক চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল ধ্রুব ও সুনীতির দ্বৈতসঙ্গীত হিসেবে। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ, গুণ এবং তাঁর প্রতি ভক্তের আত্মসমর্পণের এক অপূর্ব বহিঃপ্রকাশ। এই পদে ভক্ত হৃদয়ের ব্যাকুলতা এবং শ্রীকৃষ্ণের মোহন রূপের বর্ণনা ফুটে উঠেছে। কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর ভক্ত আত্মনিবেদনের অর্ঘে ধ্বনিত হয়েছে জয়ধ্বনী।

    শুরুতে শ্রীকৃষ্ণকে 'পীতাম্বর' (পীত বস্ত্র পরিহিত), 'শ্যাম সুন্দর', এবং 'মদন মনোহর' (যিনি কামদেবকেও মোহিত করেন) বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে। তিনি বৃন্দাবনের কাননচারী এবং বনমালী, তাঁর অঙ্গে গোপী-চন্দনের সুগন্ধ কণ্ঠে বনফুলের মালা। কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর ভক্তের আত্মনিবেদন।

    কৃষ্ণের মনোহর রূপ বর্ণায় তাঁর মাথার ময়ূরের পুচ্ছ, তাঁর ত্রিভঙ্গ রূপ এবং হাতে মোহন বাঁশি—এই রূপটি ভক্তের হৃদয়ে এক অপার্থিব প্রশান্তি জাগিয়ে তোলে। তাঁর সেই বিখ্যাত ‘ত্রিভঙ্গ’ অবয়ব এবং চপল নয়ন ভক্তের মনকে গভীরভাবে মোহিত করে। সংসারের বিরহ-বেদনার মাঝেও যেন শ্রীকৃষ্ণের এই বন-বিহারী রূপটিই একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে বিরাজ করে।

    ভক্ত কৃষ্ণপদে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে চান। ভক্তের আকুতি—তিনি যেন কৃষ্ণের রাঙা চরণে নূপুর হয়ে বাজতে পারেন। এখানে 'নূপুর' হওয়ার বাসনাটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মূল কথা ভক্ত যেন তাঁর প্রতি পদক্ষেপে কৃষ্ণের সান্নিধ্য অনুভব করতে পারেন। ভক্ত সবসময় ঈশ্বরের সান্নিধ্যে থাকতে চায় এবং কৃষ্ণের ইচ্ছায় নিজেকে পরিচালিত করতে চায়।  তাঁর দেহ ও মন যেন শুক-সারী (পাখি) হয়ে জন্ম-জন্মান্তর কেবল কৃষ্ণনাম ও কৃষ্ণের মহিমা গান করে যায়। ভক্তের দেহ ও মন যেন কৃষ্ণের গুণকীর্তনেই নিবেদিত থাকে, এটিই যেন তাঁর পরম প্রাপ্তি।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) মাসে প্রকাশিত 'চন্দ্রবিন্দু' সঙ্গীত-সংকলনে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩২ বৎসর ৪ মাস।
     
  • গ্রন্থ:
    • চন্দ্রবিন্দু
      • প্রথম সংস্করণ [সেপ্টেম্বর ১৯৩১, আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ।]
      • নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১। চন্দ্রবিন্দু। ২। খাম্বাজ-একতালা। পৃষ্ঠা: ১৬৩-১৬৪]
    • বনগীতি
      •    প্রথম সংস্করণ [১৩ অক্টোবর ১৩৩২ (রবিবার ২৭ আশ্বিন ১৩৩৯)। সরস্বতী বন্দনা। পৃষ্ঠা: ৭২-৭৩]
      • নজরুল-রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, পঞ্চম খণ্ড। বাংলা একাডেমী। ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮/মে ২০১১। বনগীতি। ৪৯ সংখ্যক গান।  সিন্ধুকাফি-যৎ। পৃষ্ঠা ২০৭]
    • নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৮৮৬।  রাগ: খাম্বাজ, তাল: একতাল। পৃষ্ঠা: ৫৬৮]
  • পত্রিকা:
  • রেকর্ড:
    •  মেগাফোন [সেপ্টেম্বর ১৯৩২ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৩৯)]। জেএনজি ১।  শিল্পী: ধীরেন দাস [শ্রবণ নমুনা]

      এর জুড়ি গান ছিল-
      • লক্ষ্মী মা তুই ওঠ্‌ গো আবার] [তথ্য]
    •  
  • স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
    • রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গীত বিজ্ঞান প্রবেশিকা। [পৌষ ১৩৪২ (ডিসেম্বর ১৯৩৫-জানুয়ারি ১৯৩৬)]। সরস্বতী- বন্দনা। মিশ্র খাম্বাজ-দাদরা। সুরকার: ধীরেন্দ্রনাথ দাস। [নমুনা]
    • আহসান মুর্শেদ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি, তেত্রিশতম খণ্ড, (নজরুল ইন্সটিটিউট, আষাঢ় ১৪১৭। জুন ২০১০)। ১৪ সংখ্যক  গান। রেকর্ডে ধীরেন দাস-এর গাওয়া সুরানুসারে স্বরলিপি করা হয়েছে। সরস্বতী বন্দনা। ভক্তিমূলক। রাগ: খাম্বাজ। তাল: একতাল। পৃষ্ঠা: ৪৮-৫১][নমুনা]
  • পর্যায়:

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।