দিও বর হে মোর স্বামী (dio bor he mor shwami)
দিও বর হে মোর স্বামী যবে যাই আনন্দ ধামে
যেন প্রাণ ত্যাজি হে স্বামী শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ নামে॥
ভাসি যেন আমি ভাগীরথী নীরে অথবা প্রয়াগে যমুনার তীরে
অন্তিম সময়ে হেরি আঁখি নীরে যেন মোর রাধা শ্যামে॥
ব্রজগোপালের শুনায়ে নূপুর মরণ আমার করিও মধুর
বাজায়ো বাঁশি দাঁড়ায়ো আসি’ রাধারে লইয়া বামে॥
- ভাবসন্ধান: গানটিতে এক কৃষ্ণভক্তের অন্তিম জীবনের আকাঙ্ক্ষা, কৃষ্ণনামের প্রতি অটল বিশ্বাস এবং রাধা-কৃষ্ণের যুগলদর্শনের গভীর বাসনা প্রকাশিত হয়েছে। এখানে "স্বামী" বলতে ভক্তের পরম প্রভু নারায়ণ বা বিষ্ণুকে বোঝানো হয়েছে। সেই পরম প্রভুর কাছেই ভক্ত তাঁর অবতার শ্রীকৃষ্ণের চরণসান্নিধ্য লাভের প্রার্থনা করেছেন। এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ভক্তির এক অনন্য রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে।
ভক্ত কামনা করেন, যখন তাঁর পার্থিব জীবনের অবসান ঘটবে এবং তিনি আনন্দধাম বা ব্রজধামে গমন করবেন, তখন যেন শ্রীকৃষ্ণ ও গোবিন্দের নাম উচ্চারণ করতে করতেই তাঁর প্রাণপ্রস্থান ঘটে। তাঁর বিশ্বাস, কৃষ্ণনামই জীবনের পরম আশ্রয় এবং মৃত্যুকালে মুক্তিলাভের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন।
তিনি আরও প্রার্থনা করেন, মৃত্যুর পর তাঁর দেহ যেন ভাগীরথীর পবিত্র স্রোতে ভাসে অথবা যমুনাতীরে স্থান পায়। বৈষ্ণব ভাবধারায় গঙ্গা ও যমুনা ভক্তি, পবিত্রতা এবং কৃষ্ণস্মৃতির মহিমান্বিত প্রতীক। ভক্তের আকাঙ্ক্ষা, জীবনের অন্তিম মুহূর্তে তাঁর নয়নে যেন রাধা-কৃষ্ণের যুগলমূর্তি উদ্ভাসিত হয়। সেই যুগলদর্শনই হবে তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি এবং আত্মার চরম তৃপ্তি।
শেষ স্তবকে ভক্ত মৃত্যুকে ভয় বা বেদনার বিষয় হিসেবে নয়, বরং কৃষ্ণমিলনের মধুর মুহূর্ত হিসেবে কল্পনা করেছেন। তাঁর প্রার্থনা, ব্রজগোপালের নূপুরধ্বনি যেন তাঁর মৃত্যুকে মধুর করে তোলে। তিনি চান, শ্রীকৃষ্ণ যেন বামপাশে শ্রীরাধাকে নিয়ে মুরলীধর রূপে আবির্ভূত হন এবং তাঁর মধুর বাঁশির সুরে ভক্তকে চিরশান্তির পথে আহ্বান জানান। সেই অপূর্ব যুগলদর্শনের মধ্য দিয়েই তিনি এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চান।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার, ১৩ মাঘ ১৩৪৩) এইচএমভি'র সাথে নজরুলের যে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তাতে গানটি ছিল। এই সময় এই সময় নজরুলের বয়স ৩৭ বৎসর ছিল ৮ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৮৬৫]
- রেকর্ড:
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার, ১৩ মাঘ ১৩৪৩) এইচএমভি'র সাথে নজরুলের যে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তাতে গানটি ছিল।
- এইচএমভি। ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭ (মাঘ-ফাল্গুন ১৩৪৩) এন ৯৮৫২। কে মল্লিক [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: আহসান মুর্শেদ [ নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, ছাব্বিশ খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। আশ্বিন, ১৪১২ বঙ্গাব্দে /সেপ্টেম্বর ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ] ১৩ সংখ্যক গান। [নমুনা]
- পর্যায়: