আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে (asha-nirashay din kete jay)

আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে?
প্রতি নিশ্বাসে নয়ন প্রদীপ মোর আসিছে নিভে॥
        ফুল ঝরে যায় হায়, পুন ফুল ফোটে
        কৃষ্ণা তিথির শেষে চাঁদ হেসে ওঠে
আমারি নিশীথের অসীম আঁধার ওগো চাঁদ কবে নাসিবে॥
শীত যায় মনোবনে ফাল্গুন আসে গো আসিল না আমারই ফাল্গুন
চাঁদের কিরণে পৃথিবী শীতল হায় মোর বুকে জ্বালে সে আগুন।
        নিশীথে বকুল শাখে
        পিয়া পিয়া পাপিয়া ডাকে
আমারই প্রিয়তম ‘জাগো পিয়া’ বলে কবে ডাকিবে॥

  • ভাবসন্ধান: গভীর ধ্যানের মধ্য দিয়ে সাধক দীর্ঘকাল অপেক্ষা করে আছেন- কবে তাঁর মনোলোকের মনের মানুষের সান্নিধ্য পাবেন। আজীবন সাধনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে সাধক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনুভব করছেন, তাঁর জীবন-প্রদীপ নিভে আসছে। প্রিয়তম পরম প্রভুর অপ্রাপ্তিতে তাঁর মনে জেগে উঠেছে হতাশা ও অভিমান। এই গানের স্থায়ীতে সাধকের মনের এই আকুলতাই উপস্থাপিত হয়েছে।

    যাপিত জীবনে আশার ফুল ঝরে যায়, আবার ফোটে। দুঃখ যাতনার অন্ধকার খেলায় কৃষ্ণাতথি শেষে আবার সহাস্য চন্দ্রের উদয় হয়। সাধকের জীবনে তেমন কিছু ঘটে না। তাই সে ব্যর্থতার গ্লানিতে নিজেকেই প্রশ্ন করে-  তাঁর অজ্ঞানতার অসীম অন্ধকারের বুকে আশার চন্দ্র কবে সৌভাগ্য বয়ে আনবে। প্রকৃতিতে শীতের শেষে বসন্তের ফাল্গুন আসে, কিন্তু সাধকের জীবনে তেমন কিছু ঘটে না। উৎতপ্ত পৃথিবী চাঁদের কিরণে শীতল হয়। শুধু তাঁর প্রিয়তমই, তাঁকে না পাওয়ার দগ্ধ যাতনা তাঁর বুকে জ্বালিয়ে রাখে।

    রাতের বকুল গাছের শাখায় যেমন করে- পাপিয়া তার প্রিয়তমাকে ডাকে পিয়া পিয়া নামে, সাধক তেমনি অপেক্ষা থাকেন- কবে পাপিয়ার মতো তাঁর প্রিয়তম তাঁকে ডাকবেন।

     
  • রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের মে  (বৈশাখ -জ্যৈষ্ঠ ১৩৫৪) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪৬ বৎসর ১১ মাস।
     
  • রেকর্ড:
    • টুইন [মে ১৯৪৬ (বৈশাখ -জ্যৈষ্ঠ ১৩৫৪) এফটি ১৩৯৯২। শিল্পী: গৌরী চট্টোপাধ্যায়। চিত্ত রায়।
  • পর্যায়:
    • বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমমাত্মা। অন্বেষণ

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।