জাগো জাগো শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী (jago jago shonkho-chokro-goda-podmo-dhari)
জাগো জাগো শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী
জাগো শ্রীকৃষ্ণ-তিথির তিমির অপসারি'॥
ডাকে বসুদেব দেবকী ডাকে
ঘরে ঘরে, নারায়ণ, তোমাকে!
ডাকে বলরাম শ্রীদাম সুদাম ডাকিছে যমুনা-বারি॥
হরি হে, তোমায় সজল নেত্রে
ডাকে পাণ্ডব কুরুক্ষেত্রে!
দুঃশাসন সভায় দ্রৌপদী ডাকিছে লজ্জাহারী॥
মহাভারতের হে মহাদেবতা
জাগো জাগো, আনো আলোক-বারতা!
ডাকিছে গীতার শ্লোক অনাগতা বিশ্বের নর-নারী॥
- ভাবার্থ: এই গানের মাধ্যমে অন্ধকার, অত্যাচার, অন্যায় দূর করে ন্যায়-আলো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জগতপালক বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে আহ্বান করা হয়েছে। জগতের সকল অত্যাচর অসত্যকে বিনাশ করে কল্যাণময় জগৎ প্রতিষ্ঠার এ আহবানে কবি পৌরাণিক না ঘটনাকে উপমা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে- রূপকাশ্রয়ে।
কংসের অত্যাচরে অতীষ্ট বসুদেব (কৃষ্ণর পিতা) দেবকী (কৃষ্ণের মাতা) ডেকেছিলেন বিষ্ণুকে। তাঁর সাথে মুনি ঋষি ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের সে ডাকে সাড়া দিয়ে বিষ্ণু তাঁর অবতার কৃষ্ণকে পাঠিয়েছিলেন জগতের কল্যাণে। পরাধীন ভারতের ঘরে ঘরে যে হাহাকার উঠেছে- নতুন অবতার রূপে আবার আবির্ভূত হোক নব জাগরণের কৃষ্ণ।
মহামিলনের মহিমা নিয়ে প্রেমের বৃন্দবনে ডাকে বলরাম শ্রীদাম সুদাম ডাকিছে যমুনা-বারি।
ডাকে কুরুপ্রান্তরে দাঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাণ্ডব। ডাকে দুঃশাসন সভায় দ্রৌপদী তাঁর লজ্জা নিবারণের বন্ধুরূপে।
কবি প্রার্থনা মহাভারতের মহাদেবতা কৃষ্ণ যেমন আবির্ভূত হয়েছিলেন দুঃশাসনের দুঃসহ শাসন থেকে মুক্ত হতে যে মুক্তির আলোকবার্তা এনেছিলেন, যে মহিমান্বিত উদার গীতার বাণী জগজ্জনকে দান করেছিলেন, সেই বাণী আবার নবতররূপে উদ্দীপ্ত করুক বিশ্বের নরনারীকে প্রেম ও সাম্যের ঔদার্যে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪১) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৫ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ:
- গানের মালা
- প্রথম সংস্করণ আশ্বিন ১৩৪১ বঙ্গাব্দ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ)। ৫১। ভৈরোঁ-দাদরা।
- নজরুল রচনাবলী। জন্মশতবর্ষ সংকলন ষষ্ঠ খণ্ড। বাংলা একাডেমী, ঢাকা। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, জুন ২০১২। গানের মালা। ৫১। ভৈরোঁ-দাদরা।। পৃষ্ঠা ২২২-২২৩।]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। ৪৯৩ সংখ্যক গান। রাগ: ভৈরব তাল: দাদরা। পৃষ্ঠা: ১৫১।
- গানের মালা
- রেকর্ড: এইচএমভি [আগষ্ট ১৯৩৪ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪১)। এন ৭২৬৫। শিল্পী: মৃণালকান্তি ঘোষ] [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার: সেলিনা হোসেন [একবিংশ খণ্ড, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। ভাদ্র ১৪০৭/সেপ্টেম্বর ২০০০] পৃষ্ঠা: ৬৮-৭২ [নমুনা]
- পর্যায়: