প্রিয় মুহরে-নবুয়ত-ধারী হে হজরত Prio muhore-nobuot-dhari
প্রিয় মুহরে-নবুয়ত-ধারী হে হজরত
(প্রিয়) তারিতে উম্মত এলে ধরায়
মোহাম্মদ মোস্তফা, আমহদ মুরতজা
নাম জপিতে নয়নে আঁসু ঝরায়॥
দিলে মুখে তক্বির, দিলে বুকে তৌহিদ
দিলে দুঃখেরই সান্ত্বনা খুশির ঈদ
দিলে প্রাণে ঈমান, দিলে হাতে কোরআন
শিরে শিরতাজ নাম মুসলিম আমায়॥
তব সব নসিহত মোরা গিয়াছি ভুলে
শুধু নাম তব আছে জেগে প্রাণের কূলে
ও-নামে এ প্রাণ-সিন্ধু তব দুলে
আমি ঐ নামে ত’রে যাব, আছি আশায়॥
- ভাবসন্ধান: গানটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভক্তি, ইসলামের মৌলিক আদর্শের প্রতি কৃতজ্ঞতা, মুসলিম সমাজের আত্মসমালোচনা এবং নবীজির ভালোবাসা ও সুপারিশের মাধ্যমে মুক্তিলাভের প্রত্যাশা উপস্থাপিত হয়েছে।
এই গানের শুরুতেই কবি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি নবীকে মানবজাতির মুক্তিদাতা ও ইসলামের পূর্ণাঙ্গ আদর্শের বাহক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। একই সঙ্গে মুসলিম সমাজ যে তাঁর শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সেই আত্মসমালোচনাও গানে প্রকাশ পেয়েছে। কবি নবীজিকে “মুহরে-নবুয়ত-ধারী” বলে সম্বোধন করেছেন। অর্থাৎ তিনি শেষ নবী, যার মাধ্যমে নবুয়তের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য। তাঁর পবিত্র নাম স্মরণ করলেই কবির হৃদয় ভক্তি ও ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
নবীজির অবদানের কথা স্মরণ করে কবি বলেন, তিনি মানুষের মুখে তাকবির (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা), অন্তরে তাওহিদের (এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস) বাণী প্রতিষ্ঠা করেছেন। দুঃখ-কষ্টে সান্ত্বনা দিয়েছেন, ঈদের মাধ্যমে আনন্দের উৎসব উপহার দিয়েছেন। মানুষের অন্তরে ঈমান, হাতে কোরআন এবং পরিচয় হিসেবে “মুসলিম” নামের সম্মান দান করেছেন। অর্থাৎ মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ দিশা তিনি প্রদান করেছেন।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি গভীর আত্মসমালোচনার সুরে স্বীকার করেন যে, মুসলমানেরা নবীজির অধিকাংশ নসিহত (উপদেশ) ভুলে গেছে। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণে শৈথিল্য এসেছে। তবুও তাঁর পবিত্র নাম আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান রয়েছে। সেই নামের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই এখনও ঈমানকে জীবিত রাখে। গানের শেষে কবি আশাব্যঞ্জক অভিব্যক্ততে বলেছেন- নবীজির পবিত্র নাম, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর সুপারিশের আশ্রয়ে তিনি পরকালের মুক্তি লাভ করবেন এবং এই আশাই কবির জীবনের প্রধান শেষ অবলম্বন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি এই গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০০৩। গান সংখ্যা ৯৪০
- রেকর্ড: এইচএমভি [জুলাই ১৯৩৬ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪৩)]। এফটি ৯৭৪৫। শিল্পী: সাকিনা বেগম (আশ্চর্যময়ী)। [শ্রবণ নমুনা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- এস.এম. আহসান মুর্শেদ। নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি (৩৬শ খণ্ড) [আষাঢ়, ১৪২১ বঙ্গাব্দ/ জুন, ২০১৪। নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা]। রেকর্ডে বেদার উদ্দীন আহমদ-এর গাওয়া গানের সুরাবলম্বনে সুর করা হয়েছে [নমুনা]
- সুরকার: কমল দাশগুপ্ত
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ রসুল
- সুরাঙ্গ: স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
- তাল: ঝাঁপতাল
- গ্রহস্বর: রা