ধর হাত, নামিয়া এসো শিব-লোক হ’তে (dhoro hat namiya esho shib)
ধর হাত, নামিয়া এসো শিব-লোক হ’তে
শিব-ভিখারি পড়িয়া আছি, অশিব মায়া-পথে॥
তব চরণে পাইতে নারি, মায়ার সাথে কেবলই হারি।
তুমি আসিয়া তুলিয়া লহ ধ্রুব-জ্যোতির রথে॥
বারে বারে জ্ঞান-দীপ যায় নিভিয়া ঝরে
তমসা-ভীত চিত্ত সম কাঁপে তোমার তরে।
জন্ম ও মৃত্যুর যাতন মম কর দূর –
আর ভাসিতে নারি তৃণসম জোয়ার-ভাঁটা স্রোতে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে ভক্তের অসহায় আত্মসমর্পণ, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ভগবান শিবের করুণালাভের জন্য গভীর প্রার্থনা উপস্থাপিত হয়েছে।
কবি মনে করেন যে, তিনি অশিব (অকল্যাণ) জগতে বাস করছেন। তাই তিনি শিবের কাছে ‘শিব-ভিখারি’হয়ে তাঁর কৃপা ও আশ্রয় দানের জন্য আবেদন করেছেন গানের শুরুতেই। কবি মনে করেন- তাঁর আশ্রয় না পাওয়ার কারণেই- মোহমায়া ও অজ্ঞানতার অন্ধকার পথে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত ও পরাজিত হয়ে পড়েছেন কবি। তিনি প্রার্থনা করেন, শিব যেন স্বয়ং এসে তাঁকে তুলে নেন তাঁর চিরসত্য, চিরজ্যোতি ও ধ্রুবশান্তির পথে।
সংসারের অন্ধকার, অজ্ঞানতা ও দুর্বলতার কারণে তাঁর অন্তরের জ্ঞানপ্রদীপ বারবার নিভে যায়। ফলে তাঁর মন ভয়, সংশয় ও অস্থিরতায় কাঁপতে থাকে। এই অবস্থায় তিনি শিবের করুণাকে একমাত্র আশ্রয় বলে মনে করেন।
গানের শেষাংশে কবি জন্ম-মৃত্যুর অনন্ত চক্র এবং সংসারজীবনের দুঃখ-যন্ত্রণার অবসান কামনা করেছেন। তিনি আর তৃণের মতো সংসারের সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি ও উত্থান-পতনের জোয়ার-ভাটার স্রোতে ভেসে বেড়াতে চান না। তিনি চান শিবের কৃপায় মোহমুক্ত হয়ে চিরশান্তি ও মুক্তি লাভ করতে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৩৭৭ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (জুলাই-আগষ্ট ১৯৭০) সন্ধ্যামালতী প্রকাশিত হয়েছিল।
- গ্রন্থ:
- সন্ধ্যা মালতী [নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২। ১৮। পৃষ্ঠা ১৩৫-১৩৬]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১৯৫১ সংখ্যক গান। রাগ: ভিখার। তাল: ত্রিতাল: পৃষ্ঠা: ৫৮৭
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিব্দুধর্ম। শাক্ত। শিব। প্রার্থনা