ঢাল পিয়ালে লাল সিরাজী
ঢাল পিয়ালে লাল সিরাজী নিত্য দোদুল তালে তালে
আঁকবো বুকে প্রীতির ব্যথা রঙিন নেশায় রঙিন জালে॥
মত্ত হবো চিত্ত হারা বেদনা ভরা বদমেজাজি
করলে পাগল ব্যর্থ আশায় করলে প্রেমের দাগাবাজি॥
রঙিন বঁধু তুমি শুধু, তুমি শুধু সত্যি হবে
রঙিন নেশায় রঙিন পথে তুমি শুধু সাথী হবে॥
শুষ্ক তালু কণ্ঠ আমার দে রে আমার রুগ্ন গালে
দে রে সাকি দে রে ঢেলে নিত্য দোদুল তালে তালে॥
- ভাবসন্ধান: হাফিজ, ওমর খৈয়াম প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত, গজলাঙ্গের এই গানে ঐশ্বরিক প্রেমকে শরাব-সাকি-পেয়ালার মতো রূপকতার আশ্রয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ গানের শরাব হলো- মোহমময় ধর্মাদর্শ। বাণী বা ধ্যানের পেয়ালায় যা পরিবেশন করে ধর্মগুরু তথা সাকি।
এই গানের ধর্মগুরুর কাছে সাধক তাঁর ধর্মোন্মদনায়কে আরও তীব্রতর করার জন্য- লাল শিরাজী (আক্ষরিক অর্থ পারশ্যের মোহনী মদ) প্রার্থনা করছেন। যে শিরাজীর নেশায় সাধক প্রতিনিয়ত আচ্ছন্ন দশায় মাতোয়ারা হতে চান। তিনি পরমসত্তার গভীর প্রেমকে বুকে ধারণ করে তাঁরই প্রতি প্রগাঢ় রঙিন নেশায় ডুবে থাকতে চান। তিনি বেদনাভরা বিক্ষিপ্ত মেজাজ হারনো পার্থিব জগৎ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য- পরমসত্তার এই প্রেমে মত্ত হয়ে থাকতে চান। কারণ জগৎ জুড়ে প্রেমের নামে যে জালিয়াতি চলছে- সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই পরমসত্তার কাছে সাধকের এই সমর্পণ।
সাধকের কাছে পরমসত্তাই পরম সত্য এব প[রমসুন্দর। তাই কবি তাঁকে রঙিন বঁধু তথা সুন্দর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর পথে চলাই হলো- সত্য ও সুন্দরের পথে যাত্রা। সবশেষ এই রঙিন বঁধুর কাছে সাধকের প্রার্থনা, যেন তিনি পরম প্রেমের তৃষ্ণাতুর হৃদয়কে পরম সত্য-সুন্দরের জন্য গুরু তাঁকে প্রেমের শিরাজী দান করেন। তিনি সে মধুর নেশায় পরমসুন্দরের আনন্দের দোলায় দুলতে পারেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। রাগ: আশা, তাল: কাহারবা/দাদরা । গান সংখ্যা ৩০৭]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। সুফিদর্শন। প্রার্থনা