(তারে) আদর ক'রে কালী বলি
(তারে) আদর ক'রে কালী বলি
(সে) সত্যি কালো নয় রে।
(তার) চরণ-ধূলির একটি কণায়
জগত আলো হয় রে॥
তার কালো রঙের ঘন-ঘটা
লুকিয়ে রাখে বিজলি-ছটা,
তার এক ঝলকে বিশ্বভুবন হয় যে,
জ্যোতির্ময় রে॥
ঐ কালি আমার সকল লোকের
পাপ তাপ যে হরে,
(যখন) চিতার আগুন ফুরায়
(তখন) সর্বজ্বালা জুড়ায়,
(মায়ের) মত কোলে ধ'রে।
সে মাটিতে রাখব বলে,
দেখে শম্বু শুয়ে পায়ের তলে!
এই প্রেমের লীলা দেখে
(আজো) জগত প্রেমময় রে॥
- ভাবসন্ধান: জগৎমাতা দুর্গার কৃষ্ণরূপিণী সত্তা হলো কালী। এই গানে কবি শিশুর মতো আদর করে মাতৃরূপিণী দেবীকে কালো নামে অভিহিত করেন। কারণ কবি জানেন দেবীর গাত্রবর্ণ কালো হলেও, তাঁর চরণ-ধূলির প্রতিটি কণা হলো- জ্ঞান, চৈতন্য ও মুক্তির জ্যোতির্ময় অপার উৎস। তাঁর কালো রূপের আড়ালেই রয়েছে সে বিজুলি-সম মহিমাময় জ্যোতির ছটা। সে জ্যোতির এক ঝলকে জগৎ হয়ে উঠে জ্ঞান ও সম্পদে জ্যোতির্ময়। সে কালোর কালিমা সর্বজনের জন্য পাপ-তাপ-হরা হয়ে ওঠে।
কালী সকল মানুষের পাপ, তাপ ও দুঃখ দূর করেন। জীবন-মৃত্যুর সকল দহন শেষে তিনি সন্তানের মতো ভক্তকে স্নেহভরে আশ্রয় দেন। আবার যখন তাঁর প্রলয়ংকরী রূপ বিশ্ববিনাশের কারণ হয়ে ওঠে, তখন শিব তাঁর পদতলে শয়ন করে সেই তাণ্ডব থামান। শিবের প্রতি কালীর এই প্রেমময় আত্মসমর্পণের লীলাই আজও বিশ্বকে প্রেমময় করে রেখেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ৩০৯১ পৃষ্ঠা: ৯৪৮]
সূত্র: দুর্গাদাস চক্রবর্তীর খাতা। - পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দু ধর্ম। শাক্ত। কালিবন্দনা